আদিবাসী নেত্রী কল্পনা চাকমাকে অপহরণের সর্বশেষ সিআইডি’র চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে বাংলাদেk আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। আদিবাসী নেতারা বলেছেন, প্রকৃত অপহরণকারীদের অচিরেই গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপর সংঘটিত সহিংস ঘটনাবলীর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন উত্তরণসহ সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।
গতকাল শনিবার সকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে বক্তারা এ দাবি জানান। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আইন সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন। বক্তব্য রাখেন তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নাট্য ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, জাস্টিস ফর বাংলাদেশের আহ্বায়ক এস এম সৈকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন, কাপেং ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মংসিংঞো, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক চৈতালী ত্রিপুরা, একশন এইড এর নুরুন নাহার বেগম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তন্দ্রা চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ।
মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেন, কল্পনা চাকমা Acni‡Yi যে শুনানি হতে চলেছে তার প্রেক্ষিতে আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী সবাইকে এক হয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। ড. সাদেকা বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কল্পনা চাকমা অপহরণের সাথে যারা যুক্ত তাদের বিচার ও শাস্তি যাতে নিশ্চিত হয় সেই ব্যাপারে রাষ্ট্রকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। রোকেয়া প্রাচী বলেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের ন্যায় বিচার হবে কি না এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। জোবাইদা নাসরিন বলেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের বিষয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে তাদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা বিগত সময়ে করা হয়েছে এবং এখনও করা হচ্ছে।
জাস্টিস ফর বাংলাদেশের এস এম সৈকত বলেন, যদি সুষ্ঠু বিচার না হয়, তা হলে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। চৈতালী ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এ যাবত্ নারীর উপর হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতনের কোন ঘটনার বিচার এই পর্যন্ত কোন সরকার করেনি। মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামে এসব ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সম্প্রতি সুজাতা চাকমা, তুমাচিং মারমা, বলিমিলে চাকমা, পনেমালা ত্রিপুরাসহ অনেককেই নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটনা আদিবাসী নারীর উপর ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সংগ্রামী আদিবাসী জুম্ম নারী সমাজের অগ্রসৈনিক কল্পনা চাকমা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের শিকার হন।
