১২ শতাংশ শুল্কের পণ্যে পিএসআই কার্যকর হবে না

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৯
আমদানি পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেসব পণ্যের শুল্ক ১২ শতাংশ পর্যন্ত সেসব পণ্যকে প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শন (পিএসআই) প্রথা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ সব পণ্যের মূল্যায়ন করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক বিভাগ। সমপ্রতি এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেছেন, নির্ধারিত কয়েকটি পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পিএসআই প্রথা থাকবে। ১২ শতাংশ শুল্কের পণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রথা উঠে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সূত্র জানায়, এখন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য কেবলমাত্র এমন পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পিএসআই প্রথা কার্যকর থাকবে। এর আগে আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কের পণ্যকে পিএসআই প্রথা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এবার পিএসআই প্রথা বাতিলের পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে আমদানিতে ১২ শতাংশ শুল্কের পণ্যকে বাধ্যতামূলক পিএসআই প্রথার আওতা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বাজেটেও পিএসআই ব্যবস্থা বাতিলের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে রাজস্ব ঝুঁকি কম -এ ধরনের বেশ কিছু পণ্যকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, বই-পুস্তক, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, বিদ্যুত্ প্লান্ট স্থাপনের যন্ত্রাংশ, রেফ্রিজারেটরস, এয়ার কন্ডিশনিং মেশিন, ডায়মন্ড, গম, বোল্ডার পাথর, কয়লাসহ বেশকিছু পণ্য ইত্যাদি। চলতি জানুয়ারি থেকেই আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআই প্রথা বাতিল হওয়ার কথা ছিল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত বাজেট বক্তৃতায়ও বলেছিলেন, জানুয়ারি থেকে পিএসআই প্রথা থাকবে না। পিএসআই প্রথা উঠে গেলে এনবিআরের শুল্ক বিভাগ এ দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। কিন্তু এনবিআরের এরকম সক্ষমতা তৈরি হয় নি এমন ভাবনা থেকে পিএসআইয়ের মেয়াদ আরো ৬ মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, ৬ মাস পর কোনভাবেই আর পিএসআই প্রথা থাকছে না। এরপর এনবিআর সব আমদানি পণ্যের মূল্যায়ন করবে। তবে অর্থমন্ত্রী সমপ্রতি এনবিআরে এক বৈঠকে বলেছেন, পিএসআই প্রথা একেবারেই উঠে যাবে না। স্পর্শকাতর কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রথা থাকতে হবে। উল্লেখ্য, পণ্য আমদানি ক্ষেত্রে দেশে বাধ্যতামূলভাবে পিএসআই ব্যবস্থা চালু হয় ২০০০ সালে। বিশ্বকে ৫টি ব্লকে ভাগ করে ৪টি কোম্পানিকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে যে চারটি কোম্পানি পিএসআইয়ের দায়িত্ব পালন করছে সেগুলো হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক কোম্পানি এসজিএস, ফ্রান্সভিত্তিক ব্যুরো ভেরিটাস ব্রিটিশভিত্তিক আইটিএস ও জাপানভিত্তিক কোম্পানি অমিক। আমদানি করা পণ্যের পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করে পিএসআই কোম্পানি। এগুলো হলো পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ, মূল্য, এইচএস কোড (পণ্য পরিচিতি কোড) ও আমদানিযোগ্যতা। এই পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করে পিএসআই সংস্থা সিআরএফ (ক্লিন রিপোর্ট ফাইন্ডিংস) সনদ ইস্যু করে থাকে। এর ভিত্তিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের শুল্কায়ন করে মালামাল খালাস করে। পিএসআই কোম্পানি যে সার্ভিস প্রদান করে তার বিপরীতে নির্ধারিত হারে চার্জ কেটে নেয়। বর্তমানে আমদানিকারকরা পিএসআইয়ের জন্য ১ শতাংশ হারে চার্জ দিয়ে থাকেন। তবে এর একটি অংশ পায় সরকার।