এসএমই উন্নয়নে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩০
সদ্য শেষ হওয়া ২০১২ সালে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে প্রায় ৫০ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এখাতের পুরাতন উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেয়াসহ সর্বোপরি এসএমই খাতের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে ক্লাস্টার (গুচ্ছ পদ্ধতি) ভিত্তিক অর্থায়ন। তাই ক্লাস্টার পদ্ধতিকে আরো কার্যকর করতে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ক্লাস্টারের সমস্যা চিহ্নিত ও এগুলো সমাধানে এ টিম কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ক্লাস্টারে উল্লেখযোগ্যভাবে অর্থায়নকারী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে সমন্বয়কারী অন্যান্য ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে মনিটরিং ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই বিভাগ নিয়মিত সার্বিক কার্যক্রম মনিটর করবে। এছাড়া সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও এসব ক্লাস্টার পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম বিভাগের মহা-ব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, ক্লাস্টার ভিত্তিক অর্থায়নকে গুরুত্ব দিতে নতুন এ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্লাস্টার উন্নয়ন ও নতুন নতুন ক্লাস্টার খুঁজে বের করা, নারী উদ্যোক্তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার কাজ করা হবে। এছাড়া নারীদের এসএমই অর্থায়ন বিষয়ে সচেতন করা, পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের কলেবর বৃদ্ধি, ব্যাংকার ও উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন, এসএমই বিষয়ক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও মেলা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হবে। এর আগেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএমই খাতের উন্নয়নে এসব কাজ করে আসছে। নতুন এ কমিটির তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি এবং ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের কারণে ২০১০ ও ২০১১ সালে নির্ধারিত লড়্গ্যমাত্রার অতিরিক্ত ও প্রায় শতভাগ অর্জিত হয়েছে। ২০১২ সালে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা। গেল বছরের ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সকল ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪৯ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ শতাংশ। জানা গেছে, টেকসই এসএমই উন্নয়ন এবং ক্লাস্টার উন্নয়ন ও অর্থায়নকে গুরুত্ব দিতে চলতি বছরে প্রতিটি ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব পছন্দের ভিত্তিতে অন্তত একটি করে ক্লাস্টার উন্নয়নের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৮টি ব্যাংকের সহযোগিতায় এ যাবত্ সারাদেশে ৪৬টি ক্লাস্টার উন্নয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে “এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ বিভাগ” নামে একটি আলাদা এসএমই বিভাগ গঠিত হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আঙ্গিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসএমই অর্থায়ন ও কার্যক্রম গতিশীলতা লাভ করে। এছাড়া ২০১২ সালে এসএমই বিভাগের নানামুখী সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে এসএমই অর্থায়ন কার্যক্রম আরো ব্যাপকতা লাভ করেছে। এসএমই বিভাগ গঠনের পর এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ১১ লাখ উপকারভোগী এসএমই উদ্যোক্তাকে প্রায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ৪৭ হাজার উপকারভোগী এসএমই নারী উদ্যোক্তাকে প্রায় ছয় হাজার ২০০ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০১২ সালে সারাদেশে প্রায় ৫০ হাজার নতুন উদ্যোক্তাকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার এসএমই ঋণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগ থেকে ৪টি তহবিল পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ফান্ড, এডিবি ফান্ড, ইজিবিএমপি (আইডিএ) ফান্ড এবং জাইকা ফান্ড। বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিজস্ব তহবিল (বিবি) ও এডিবি তহবিল হতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য হ্রাসকৃত ১০ শতাংশ (ব্যাংক রেট+৫ শতাংশ) সুদহারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রম ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে এসএমই অর্থায়নে উত্সাহিত করছে।