টাইম লিস্ট -২০১২

বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী নারী

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৪
প্রভাবশালী নারীদের প্রভাব যে পূর্বেও ছিল, তাই প্রমাণ করতে টাইম লিস্ট এবছর বিংশ শতাব্দীর ২৫ জন প্রভাবশালী নারীদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরি করেছেন। বিংশ শতাব্দীতে যাদের প্রভাব ছিল বিশ্বব্যাপী। যা পরবর্তী প্রজন্মের নারীদের জন্য পাথেয় বা অনুকরণীয় হিসেবে ভূমিকা রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। এদের মধ্যে জেনি এ্যাডাম’স (১৮৬০-১৯৩৫), কোরাজন এ্যকুইনো (১৯৩৩-২০০৯), রাসেল কারসন (১৯০৭-১৯৬৪), কোকো চ্যানেল (১৮৮৩-১৯৭১), মাদার তেরেসা (১৯১০-১৯৯৭), অপেরা উইনফ্রে (১৯৫৪- জীবিত), মার্গারেট থেচার (১৯২৫- জীবিত), হিলারি ক্লিনটন (১৯৪৭- জীবিত), ইন্দিরা গান্ধী (১৯১৭-১৯৮৪), ম্যাডোনা (১৯৫৮- জীবিত) প্রমুখ নারী। মাদার তেরেসা আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী মাদার তেরেসা ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট অটোম্যান সাম্রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৫০ সালে কলকাতায় ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটি’ নামে একটি সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সুদীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি দরিদ্র, অসুস্থ, অনাথ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। প্রথমে ভারত এবং পরবর্তীতে সমগ্র বিশ্বে তার এই মিশনারির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭০-এর দশকের মধ্যেই সমাজসেবী এবং অনাথ ও আতুরজনের বন্ধু হিসেবে তার খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের ১৭ অক্টোবর তিনি তার সেবাকার্যের জন্য ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন লাভ করেন।’ তার মৃত্যুর পর ‘পোপ দ্বিতীয় জন পল’ তাকে স্বর্গীয় আখ্যা দেন এবং তিনি কলকাতার স্বর্গীয় টেরিজা নামে পরিচিত হন। মার্গারেট থেচার লৌহ মানবী খ্যাত মার্গারেট থেচারের জন্ম ১৯২৫ সালে। থেচার ক্যামিস্ট ও ব্যারিস্টারি পড়াশোনা শেষে ১৯৫৯ সালে ব্রিটেনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বিংশ শতাব্দীতে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় এক সোভিয়েত সাংবাদিক তাকে লৌহ মানবী উপাধী দেন। তার রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন আপোসহীন নেতৃত্বদানের অধিকারিণী। তিনি এগার বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান বেশি লোকসান দেখিয়েছিল উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত করেন। এমনকি ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে কম কর প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক খরচসমূহকে একটি নির্দিষ্ট সীমার ভেতর নিয়ে আসেন। থেচার ব্রিটেনের জন্য আরো উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, ব্যবসায়ীদের উদ্যোগী করে তোলা এবং মিত্রদের সহযোগিতা প্রদান করা। অপেরা উইনফ্রে বিলিওনিয়র অপেরা উইনফ্রে‘র জন্ম ১৯৫৪ সালে। টেলিভিশন টক শো‘র মাধ্যমে অপেরা বনে গেছেন বিলিওনিয়র। তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র আফ্রো অ্যামেরিকান বিলিওনিয়র, যিনি তার এই অগাধ প্রতিপত্তিকে নিজে আগলে না রেখে গরীব দুঃখীদের মাঝে তা বিলিয়ে দিয়ে দানশীলতায় একটি মহত্ হূদয়ের পরিচয় দিয়েছেন। অপেরা এই টিভি শো এর মাধ্যমে ‘এ্যমি এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন এবং এই টিভি শো টি বিশ্বের ১৪৫টি দেশে একযোগে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। ডে-টাইম টিভি অনুষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় শো হচ্ছে এই শোটি। একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ২০০৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে বারাক ওবামা, হিলারির তুলনায় বেশি ভোট পাওয়ার কৃতিত্ব অধিকাংশই অপেরা উইনফ্রের ব্যক্তিগত সমর্থনের জন্য। অপেরা উইনফ্রে অভিনয়ের মাধ্যমেও তার প্রতিভা প্রকাশ করেন। তিনি স্টিভেন স্পিল বার্গের ‘দ্যা কালার পার্পল’ চলচ্চিত্রে সুফিয়া চরিত্রের জন্য অস্কার নমিনেশন লাভ করেন।