শেরপুরে বিষমুক্ত শসা চাষে অভাবনীয় সাফল্য

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৪
দেড় লাখ টাকা খরচ করে তিন মাসে ৫ লাখ টাকার শসা বিক্রি করে নকলা উপজেলার গৌরদ্বার এলাকার প্রান্তিক কৃষক দু্্ই ভাই মফিজ ও শরাফত আলী সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। নকলা উপজেলার পাইসকা গ্রামে তিন একর জমি লিজ নিয়ে তারা জৈব পদ্ধতিতে শসার আবাদ করে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েক দফায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন জমিতে যে পরিমাণ শসা রয়েছে তাতে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রি করার আশা করছেন তারা। অথচ ২ বছর আগে একই জমিতে ধান ও পাট আবাদ করে ব্যাপক লোকসান গুনে চাষাবাদ ছেড়ে দুইজনই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি নেয়ার কথা ভেবেছিলেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে শসা আবাদ করে এখন তারা লাখপতি বনে গেছেন। একই এলাকার অনেক প্রান্তিক কৃষক দুই ভাইয়ের শসার আবাদ দেখে তাদের জমিতে শসা আবাদ করে খরচের প্রায় দ্বিগুণ লাভ করেছেন। তাদের মতে বাজারে কীটনাশকমুক্ত শসার চাহিদা বেশি। দাম ভালো পাওয়ায় লাভও বেশি হয়। মফিজ জানান, অনেক কৃষকই এখন বিষমুক্ত পদ্ধতিতে শসা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের বিষমুক্ত শসাসহ কুমড়াজাতীয় সবজি চাষেও নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। শসা চাষের জন্য তারা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশকের পরিবর্তে ‘সেংফেরোমন ফাঁদ’ ও ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে শসার ফলন ভালো হচ্ছে। বাজারে চাহিদা তৈরি হয়েছে, দামও পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক মফিজ জানান, শসা লাগানোর ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফলন পাওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে শসা আবাদে খরচ পড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় উত্পাদন পাওয়া যায় প্রায় ১শ’ থেকে ১১০ মণ। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ শসা মৌসুমের শুরুতে বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা। এর কিছুদিন পর ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এতে প্রতি বিঘায় উত্পাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার মতো লাভ থাকে। শেরপুরের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুভাষ চন্দ দেবনাথ বলেন, জেলায় এবার ৩শ’ হেক্টর জমিতে বিষমুক্ত শসা আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। এতে কৃষকদের প্রায় তিনগুণ লাভ হবে। চাহিদা থাকায় কৃষকরা এ ধরনের সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।