ফুটপাতের পিঠাওয়ালা ভদ্রঘরের অভিজাত গৃহবধূদের মুক্তি দিয়েছে পিঠা তৈরির কষ্ট থেকে। শীতে পরিবারের সবাই নানা পিঠা খেতে উত্সাহী হয়। গ্রাম থেকে শহরের সকল পরিবারেই এ চাহিদা। কিন্তু এ পিঠা তৈরিতে নানা ঝক্কি। দরকার পড়ে নানা উপকরণ। তার সঙ্গে লাগে অভিজ্ঞতা। সব মিলে অন্যসব খাবারের মত সহজে তৈরি করা যায় না শীতের পিঠা। সামর্থ্যেরও প্রয়োজন পড়ে। নুন আনতে পানতা ফুরোনোদের সংসারে অধিক মূল্যের চিনি, গুড়, দুধ কেনা কষ্টসাধ্য। তাদের কাছে পিঠা খাওয়াও দুস্বপ্ন।
কিন্তু তারপরও তাদের পিঠা খাওয়া বন্ধ থাকছে না সৈয়দপুরে। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের পিঠা খাওয়ার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে প্রায় শতাধিক পিঠার দোকান। এসব পিঠার দোকান বসছে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ সমস্ত ভাসমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকরাই হলো হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূরা। স্বচ্ছছলতা ফেরাতে স্বামীর সংসারে অর্থের যোগান দিতে তারা রাস্তার পাশে তেল পিঠা, চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে। প্রতিটি পিঠা ৩ টাকা থেকে ৫ টাকায় বিক্রি করছে তারা। রিক্সাচালক, দিনমজুর, পথচারী ও শিশু-কিশোর ছাত্ররাও এ সমস্ত পিঠা দোকানের প্রধান ক্রেতা।
এছাড়া এমন অনেক স্বচ্ছল পরিবারের সদস্য রয়েছেন যারা মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে ফেরার সময় ওই পিঠা ক্রয় করে বাড়ি নিয়ে যান। সকাল-সন্ধ্যা শহরের দারুল-উলুম-মাদ্রাসা মোড় এলাকায় আধুনিক সৈয়দপুর প্লাজা মার্কেট, জিকরুল হক সড়ক সংলগ্ন, গোস্ত হাটি সড়ক সংলগ্ন, ১ ও ২নং রেল গেট সংলগ্ন, বিজলী সিমেনা হল, তামান্না সিনেমা হল ও রেলওয়ে স্টেশন মোড়ে প্রতিদিন ওই সমস্ত পিঠার দোকান বসে। শীত আসলেই ওসব পিঠার দোকানের ওপর প্রায় ৫শ’ পরিবারেরও বেশি পরিবার নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
দারুল-উলুম-মাদ্রাসার মোড় এলাকার রিক্সাচালক হাসানুরের স্ত্রী ফিরোজা জানায়, তিনি পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা আয় করে থাকেন। এ কারণে শীত মৌসুমে তাদের সংসারে অভাব একেবারেই থাকে না। ফিরোজা মূলত ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করে। এতে থাকে নারিকেল, খেজুর গুড় ও বাদাম এবং খেতেও স্বাদের।
