দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালী সফর করবেন। তিনি দুপুর সাড়ে বারোটায় জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্যাস ফিল্ডের উদ্বোধন করবেন। এরপর দুপুর সোয়া দুইটায় ১৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরো ১০টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরপরই নোয়াখালী হাউজিং মাঠে এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ১০টি উন্নয়ন কাজের মধ্যে কবিরহাট উপজেলা পরিষদ ভবন, সোনাইমুড়ি উপজেলা পরিষদ ভবন, নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ ভবন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১০ তলা একাডেমিক ভবন, মুছাপুর ক্লোজার নির্মাণ কাজ ও নোয়াখালী পৌরসভার নতুন ভবনের উদ্বোধন এবং সদর উপজেলা পরিষদের নতুন কমপ্লেক্স ভবন, চাটখিল উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশান ও সোনাইমুড়ি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিস্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নোয়াখালী সফর উপলক্ষে গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল জেলা শহর মাইজদী হাউজিং মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালী সদরের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল করার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবার পথে। জনসভায় ১০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য গত একমাস ধরে জেলার দলীয় নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক কাজ করার পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে নোয়াখালীবাসীর পক্ষ থেকে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, নোয়াখালী পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন, চৌমুহনী থেকে সোনাপুর পর্যন্ত নতুন বিকল্প সড়ক নির্মাণ, সোনাপুর থেকে হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ, চৌমুহনীতে ফ্লাইওভার নির্মাণ, সোনাপুর-জোরালগঞ্জ সড়ক পাকাকরণ, সন্ধীপ-কোম্পানীগঞ্জ ক্রসডেম নির্মাণ, নোয়খালী খাল পুনঃখনন, হাতিয়া-নিঝুম দ্বীপ ক্রসডেম ও নোয়াখালী জেলা শহরে চান্দিনি ভিটি স্থায়ী বন্দোবস্ত ও মূল্য পুনঃ নির্ধারণসহ ১২টি দাবি উত্থাপন করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা দেয়ার পর তা বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি লাভ করবে। প্রধান মন্ত্রীর এ সফর বৃহত্তর নোয়াখালীতে উন্নয়নের জোয়ার বইবে।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিমের সভাপতিত্বে এ সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, জেলা আওয়ামী লীগের আবদুল মোমিন বিএসসি, মিয়া মো. শাহজাহান, মাওলা জিয়াউল হক লিটন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহিদ উল্যাহ খান সোহেল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোস্তফা ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উত্সবমুখর পরিবেশ ও সাজসাজ রব সৃষ্টি হয়েছে। জেলায় বর্তমান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত ১১ বছর পূর্বের চেয়ে অনেক সংগঠিত। দলীয় প্রস্তুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় কয়েক লাখ লোকের সমাগম হবার সম্ভাবনা রয়েছে। জনসভাকে সফল করার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়েদুল কাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা ও জনসভা স্থল পরিদর্শন করেন। অন্য দিকে জেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাতদিন ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। জেলা শহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের নেতাদের ডিজিটাল ব্যানার আর বড় বড় বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে।
