কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলি দীঘির মালিকানা নিয়ে দু’টি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা। কেশবপুর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িভদ্রা নদীর তীরে প্রায় ৮০ বিঘা জমির উপর ঐহিত্যবাহী খানজাহান আলি দীঘি অবস্থিত। ২০০৭ সালে উপজেলার ভোগতী নরেন্দ্রপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও মোক্তার আলী দীঘিটি ৫ বছরের জন্য ডিড করে নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ২০১২ সালে ডিডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় তিনি ৫ বছরের জন্য ডিড করে নেন। একই সময়ে ওই দীঘির প্রায় ৩০ বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য ডিড করে নেন শ্রীফলা গ্রামের মাসুদুর রহমান। এরপর থেকে দীঘির মালিকানা নিয়ে দু’টি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে বিষয়টি নিয়ে গত ২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির উপস্থিতিতে এক বৈঠক বসে। বৈঠকে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়। বর্তমান দীঘির দখল নিয়ে দুটি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
ঘের মালিক জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ২ জানুয়ারি প্রতিপক্ষ মাসুদুর রহমান বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক লোক ভাড়া করে এনে দীঘির কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক দীঘি থেকে ৮ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ মাসুদুর রহমান বলেন, ২৯ ডিসেম্বর জাহিদুল ইসলামের ডিডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তিনি ওই দীঘি ৫ বছরের জন্য ডিড করে নেন।
পরে জাহিদুল ইসলাম দীঘির দখল ছাড়তে তালবাহানা শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সালিশ হয়। কিন্তু তারা সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে জড়িয়ে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল জলিল বলেন, মাছ লুট করার কোন ঘটনা তদন্তে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
