চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম শিল্প বণিক সমন্বয় পর্ষদ নামে একটি নতুন সংগঠন গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ঘোষিত হলেও উচ্চ আদালতে মামলা হলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম চেম্বারের মেয়াদ আরো তিনমাস বাড়ানো হয়। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক এসএম নুরুল হকের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম শিল্প বণিক সমন্বয় পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের বর্তমান সভাপতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমসহ চট্টগ্রাম চেম্বারের আরো বেশ কয়েকজন পরিচালকের সাথে নুরুল হকের পরোক্ষভাবে যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। কারণ বর্তমানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সকল কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি হিসেবে চেম্বারের সাবেক সভাপতি এমএ লতিফ কাজ করে থাকেন। মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমকেও সভাপতি করার পেছনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। কিন্তু এবারকার নির্বাচন নিয়ে এমএ লতিফ এমপি এবং মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমের মধ্যে বিরোধ বাধে। উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পত্র-পত্রিকায় বক্তব্য দেন। জানা যায়, এবার চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে এমএ লতিফ এমপি সভাপতি হিসেবে মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমকে সমর্থন না দেয়ায় এ বিরোধ বাধে। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন চলাকালীন সময় ভোটার তালিকাসহ বিভিন্ন অভিযোগে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা হয়। এ সকল মামলার পেছনে বর্তমান চেম্বার সভাপতিরও সমর্থন ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। তাছাড়া চেম্বার নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার কারণে পুরো নির্বাচনী কর্মকাণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে যে সকল ত্রুটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে তা দূর করে স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে চট্টগ্রাম শিল্প বণিক সমন্বয় পর্ষদ গঠন করেছেন বলে এর আহবায়ক এসএম নুরুল হক জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। এই পর্ষদে ইতিপূর্বে চেম্বারের নেতৃত্বে আসতে ব্যর্থ শীর্ষ ব্যবসায়ীরা সংগঠিত হয়েছেন বলে জানা যায়।
