জয়পুরহাটে রেললাইনের পার্শ্বে দোকান

ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেন চলাচল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৮
জয়পুরহাট শহরের মেইন রোডে রেলগেটসহ রেললাইনের উপর রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী ফলমূলের ও শীতের কাপড়ের দোকান। রেললাইনের উপর বসেছে এসব দোকান। ফলে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন ও যানবাহন চলাচল করলেও সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর নেই। ট্রেন আসলে তাড়াহুড়ো করে দোকান সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবার যথাস্থানে দোকান বসানো হয়। রেললাইনের উপরে পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী দোকান একটি মাসিক গোপন চুক্তির মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছে রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এসব অবৈধ দোকান থেকে প্রতিমাসে জয়পুরহাট রেল স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা আদায় করেন মোটা অংকের চাঁদা। আদায়কৃত এসব চাঁদার টাকা ভাগ রেলের উপর মহলেও যায় বলে জানা গেছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রেললাইনের উপরে একাধিক দোকান মালিক জানায়, স্টেশন মাস্টারের প্রেরিত ব্যক্তিকে রেলগেটের পার্শ্বের দোকানের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে প্রতিটি দোকানের জন্য ৭০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তবে রেলগেটের উপরে বসা এক একটি দোকানের মাসিক ভাড়া ১২ শ’ টাকা থেকে ১৫ শ’ টাকা আদায়কৃত এসব চাঁদার ভাগ রেলওয়ের রাজশাহী ও পাকশি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটেও যায়। আর এ কারণে ট্রেন কিংবা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এই রেলগেটসহ স্টেশন এলাকায় বছরের পর বছর চলাচল করলেও অবৈধ এসব দোকান উচ্ছেদের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না। অস্থায়ী দোকানদাররা জানায়, কোন দোকানের ভাড়া দিতে একটু দেরি হলে এককালীন অতিরিক্ত কিছু টাকা নিয়ে অন্য একজন দোকানদারকে বসানো হয় ঐ স্থানে। রেলগেট ও রেললাইনের উপর এসব দোকান থাকার কারণে গত ৫ বছরে জয়পুরহাট রেলগেট ও রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।