চম্পার লাশের ফের ময়না তদন্ত সম্পন্ন

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কাশেমাবাদ গ্রামের স্কুল ছাত্রী চম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় খুনিদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ফরিদপুর। একই সঙ্গে চম্পার লাশের ময়না তদন্তের মনগড়া প্রতিবেদন দেয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ফরিদপুরের মানুষ। এদিকে গত শনিবার চম্পার লাশ কবর থেকে পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য তোলা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাত্ রবিবার বেলা ৩টার দিকে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। শনিবার লাশ উত্তোলনের পর ময়না তদন্ত করেতে গিয়ে মর্গ থেকে ফিরে আসে গঠিত মেডিক্যাল টিম। এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আ. স. ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের দেয়া সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে লাশের মিল না থাকায় শনিবার ময়না তদন্ত করা হয়নি। অন্যদিকে গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন সংগঠন, সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে জড়ো হতে থাকে। বেলা ১১টায় বিক্ষুব্ধ ফরিদপুরবাসী, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি, মহিলা পরিষদ, নিজেরা করি, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ পর্ষদ, ব্লাস্ট ও রাসিন-এর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে এনজিও সংস্থা এফডিএ, বিএফএফ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সুহূদ সমাবেশ, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবসহ প্রায় অর্ধশত সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত মানুষ। এ সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এস এম নূরুন্নবী, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক রেশাদুল হাকীম, বেলায়েত ফকির, শওকত আলী জাহিদ, নিহত চম্পার বড় ভাই হাসিবুল, আসমা আক্তার মুক্তা প্রমুখ। পরে একটি মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এদিকে মামলার আসামি ও প্রথম বার ময়না তদন্তকারী চিকিত্সক স্বাচিপ নেতা অঞ্জন কুমার দাস প্রতিবেশী হওয়ায় মিথ্যা বানোয়াট প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে চম্পার পরিবার। এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে এ মামলার দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসক মইনউদ্দিন আহমদ বলেন, চম্পার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে, ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।