সরকার গুপ্তহত্যা কর্মসূচি সম্পাদন করছে :তরিকুল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৮
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেছেন, গোটা দেশ এখন মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার টিকে থাকার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে নিজেদের ক্যাডার ঢুকিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গুপ্তহত্যা ও গুমের ধারাবাহিক কর্মসূচি সম্পাদন করে যাচ্ছে। গতকাল রবিবার হরতাল শেষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি। তরিকুল ইসলাম ঘোষণা দেন রমনা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মজুমদারকে খুনের প্রতিবাদে আগামীকাল মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর বিএনপি। রফিক মজুমদারের মৃতদেহ ঢাকায় পৌঁছালে আজ সোমবার নয়াপল্টনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি। ‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে যারা হরতাল দেয় তারা উন্মাদ’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের এই মন্তব্যের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অর্থমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। উনার বয়স এখন ৮২ বছরের বেশি, এই বয়সে এই ধরনের কথা বলতেই পারেন। ৮২ বছরের অর্থমন্ত্রীর কথায় আমরা কিছু মনে করি না। আমাদের বাপ-দাদারাও এ রকম বলতেন। ৭২ বছর বয়সের পর মানুষ বাহত্তরা হয়ে যায়।’ ‘বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হতে হবে এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ হচ্ছে’ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার এই বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সংলাপ হতে হবে সেটা আমিও বলি। কিন্তু ভেতরে-ভেতরে সংলাপ হচ্ছে এটা শুনিনি। আমাদের নেত্রীও বলেছেন, দলের বাইরে ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা হয় না, হয় ষড়যন্ত্র।’ তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার আনন্দনগর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন রফিক মজুমদার। রাতে র্যাব গিয়ে দরজার কড়া নাড়ে, পরে র্যাব তাকে ধরে নিয়ে যায়। তার হাতে যে হাতকড়া তাতে খোদাই ‘পুলিশ’ শব্দ লেখা রয়েছে। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে যেন কোনো সংশয় না থাকে সেজন্যই এই কথাটি বললাম।” বিএনপির সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম আরো বলেন, এর আগে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমকেও গুম করা হয়েছে। এভাবে বর্তমান সরকারের গত চার বছরে ১৫৬ জনকে গুম করা হয়। গুমের দীর্ঘ মিছিলে সর্বশেষ যুক্ত হলো রফিক মজুমদার। কিন্তু বেশিরভাগেরই লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তরিকুল ইসলাম বলেন, এই সরকারকে আর শান্তির ললিতবাণী শুনিয়ে লাভ নেই। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। হরতাল আমাদের জাতীয় অধিকার। মহাত্মা গান্ধী হরতাল দিয়েছেন, নেলসন ম্যান্ডেলাও দিয়েছেন। তরিকুল বলেন, ‘আমরা গত চার বছরে ২৩ দিন হরতাল দিয়েছি। আর আওয়ামী লীগ আমাদের সরকারের ৫ বছরে ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন হরতাল চলাকালে সারাদেশে ৩০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার ও পুলিশি হামলায় ৩৫০ জন আহত হয়েছে। তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তরিকুল বলেন, ‘১১ জানুয়ারি জাতির কথিত শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ক্ষমতা নিয়েছিল। সেদিন কালো পতাকা মিছিল করবো। ঘৃণা জানাবো।’ ‘সরকারের অর্জন নষ্ট করতে এই হরতাল’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে তরিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের অর্জন—তারা পদ্মা সেতু খেয়ে ফেলেছে। শেয়ার বাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকা লুট করেছে। ২১টা ব্যাংক নিয়েছে। ৮৫টা কুইক রেন্টাল বিনা টেন্ডারে নিয়েছে। ২৬টি গেটওয়ে নিয়ে ভিওআইপি ব্যবসা করছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মির্জা ফখরুলের মতো অবস্থা হবে—আইন প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বটতলার উকিলকে আগে চিনতাম না। তিনি কি বলেছেন জানি না। তবে আমরা সবাই রেডি আছি। সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্য¬াহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।