সমপ্রতি নিয়োগ পাওয়া পূর্বাঞ্চল রেলে সহকারী লোকো মাস্টার পদের ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের ডিডি আবু সাইদের নেতৃত্বে পূর্ব রেলের নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক রাশেদুর রেজা এবং উপ-সহকারী পরিচালক রেজাউল হাসান তরফদার তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক রাশেদুর রেজা বলেন, পূর্ব রেলে নিয়োগে অনিয়মের যে অভিযোগ এসেছে, তার তদন্তের ধারাবাহিকতায় লোকো মাস্টার পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের দুদকে তলব করা হয়েছে। চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানার ১৩/৯/২০১২ তারিখের ৩৩ নম্বর মামলার তদন্তে গতকাল সহকারী লোকো মাস্টার পদের ২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় রেলের নিয়োগে ৬টি ক্যাটাগরির ১০৬৯টি পদের মধ্যে ৮০ ভাগ পদেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে ১১২ জন চৌকিদার, ৩৬৯ জন ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস, ২৪৮ জন সুইপার, ১৪৩ জন ট্রলিম্যান, ১৫ জন সহকারী সাব ইন্সপেক্টর ও ১৮২ জন লোকো মাস্টার পদে নিয়োগে। নিয়োগের জন্য টেবুলেশন শিটে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে অসংখ্য অকৃতকার্যকে কৃতকার্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। এমনকি মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সুইপার থেকে রেলের লোকো মাস্টার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই টাকা পার্সেন্টেজের ভিত্তিতে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। এছাড়া রেলওয়ের কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত, মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের সন্তান-সন্ততি, মহিলা, অনগ্রসর জেলা, আনসার-ভিডিপি, উপজাতীয়, এতিম প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন ধরনের কোটার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার প্রমাণ পেয়েছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা।
