আসামিদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৪
চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার ধসে পড়া ঘটনাটি ক্রমান্বয়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ঘটনা তদন্তে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু সোয়া এক মাসেও এসব কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। ফ্লাইওভার ধসে পড়ার ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় এখনো পর্যন্ত কোন আসামি ধরা পড়েনি। পুলিশ বলছে, আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না। মান যাচাইয়ের জন্য গঠিত কারিগরি কমিটির রিপোর্ট নিয়ে বিলম্বের কারণে ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভবিষ্যত্ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। পথচারীদের চলাচল বন্ধ রাখায় ফ্লাইওভার এলাকায় শতাধিক ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারছে না। ফ্লাইওভার ধসে পড়ার ঘটনায় প্রায় ১৩ জন পথচারী মারা যান। ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সিডিএ’র ৩ জন প্রকৌশলীকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু ঘটনার পর গত সোয়া এক মাসে পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে বলে সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা জানান। এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল বণিক ইত্তেফাককে বলেন, আসামিদের মধ্যে একজন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। চট্টগ্রামে যাদের বাড়ি তাদের ধরার জন্য অসংখ্যবার অভিযান চালিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর যাদের বাসা ঢাকায় তাদের ধরতে সংশ্লিষ্ট থানায় মেসেজ পাঠানো হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ ফ্লাইওভার ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনার পর ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (প্রশাসন) নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি, সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি, জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি ও রাজউকের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কারিগরি কমিটি। এর মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ জেলা প্রশাসনের কমিটি তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বাকি কমিটিগুলো এখনো পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি। ফ্লাইওভারের গুণগত মান নির্ণয়ের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদাকে প্রধান করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির রিপোর্টের উপর নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে। ইতিমধ্যে ফ্লাইওভারের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কারিগরি কমিটির রিপোর্ট না পাওয়ার আগেই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য সেনাবাহিনীকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিএ। অন্যদিকে এত বড় দুর্ঘটনার পরেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বহাল রাখা হচ্ছে। তদারকির জন্য সেনাবাহিনীকে বাড়তি টাকা প্রদান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, ‘কারিগরি কমিটি মন্ত্রণালয় করেছে। তাই এই কমিটি কবে রিপোর্ট দেবে তা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এই কমিটির রিপোর্টের উপর প্রকল্পের ভবিষ্যত্ নির্ভর করবে। সেনাবাহিনীকে বাড়তি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, না সিডিএ প্রদান করবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ ফ্লাইওভার ধসে পড়ার পর সিডিএ’র সিনিয়র কোন প্রকৌশলী প্রকল্প কর্মকর্তা হতে রাজি হননি। ফলে একজন সহকারী প্রকৌশলীকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘মীর আক্তার ও পারিশা যৌথভাবে নির্মাণ কাজ করেছিল। তবে মীর আক্তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবশিষ্ট কাজের দায়িত্ব দেয়া হবে।’ বহদ্দারহাট মোড় বন্দরনগরীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন শত কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হয়। ফ্লাইওভার ধসে পড়ার ঘটনার পর বহদ্দারহাট মোড় থেকে চান্দগাঁও থানা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে অবস্থিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এক পাশে টিনের ঘেরা দিয়ে পথচারীদের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে এক পাশ থেকে অপর পাশে যাওয়া যায় না। এলাকায় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করে এখানকার শতাধিক প্রতিষ্ঠান সোয়া এক মাস যাবত্ ব্যবসায়িক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ব্যবসার উপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদের জীবন- জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।