উন্মুক্ত সোর্স অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ডেস্কটপের জন্য অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে উবুন্টু। উইন্ডোজ বা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমের চাইতে ভিন্ন লিনাক্সনির্ভর এই অপারেটিং সিস্টেমটি সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের উপর জোর দেওয়ায় এর ব্যবহারও বেড়ে গেছে অনেকখানি। তবে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট পিসি’র বিক্রি ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের মোবাইল ডিভাইসেও উবুন্টুর সংস্করণ তৈরি হওয়া নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনাই ছিল প্রযুক্তি বিশ্বে। গত বছরে উবুন্টুর নির্মাতা ক্যানোনিক্যালও জানিয়েছিল মোবাইল ডিভাইসের জন্য উবুন্টু সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে তারা। অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে মোবাইল ফোনের জন্য তৈরি হলো উবুন্টুর নতুন সংস্করণ। এতে করে স্মার্টফোনগুলোতে উবুন্টু ইন্সটল করলে ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশনগুলোও ব্যবহার করা যাবে। আবার মনিটরের সাথে স্মার্টফোন সংযুক্ত করে সরাসরি পিসি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। অর্থাত্, বলতে গেলে গোটা পিসির অপারেটিং সিস্টেমকেই পুরে দেওয়া হয়েছে স্মার্টফোনে। একটি পিসিতে একজন ব্যবহারকারী যেসব সুবিধা উপভোগ করতে পারেন, তার সবটাই উপভোগ করা যাবে স্মার্টফোনের উবুন্টুর মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি নেক্সাসসহ বেশ কয়েকটি স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যাবে এই অপারেটিং সিস্টেম। উবুন্টুর এই অপারেটিং সিস্টেমটি স্মার্টফোনে ইন্সটল করার সুবিধার্থে এর একটি ইন্সটলেশন ফাইল উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করেই অ্যানড্রয়েড সমর্থিত ফোনগুলোতে ইন্সটল করা যাবে এটি। তবে সরাসরি উবুন্টু ব্যবহার করে স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসার বিষয়েও ফোন নির্মাতাদের সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছেন উবুন্টুর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক শাটলওয়ার্থ। চলতি বছরেই বাজারে উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেমের স্মার্টফোন বাজারে আসবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি। তবে যারা উবুন্টুর সাথে আগে থেকেই পরিচিত, তারাই প্রাথমিকভাবে এটি ব্যবহার করে মজা পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে অবশ্য স্মার্টফোনের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরির বিষয়েও নিশ্চিত তিনি। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানান, ‘বেসিক মডেলের যে ল্যাপটপগুলো রয়েছে, বর্তমানের স্মার্টফোনগুলো একই ধরনের পারফরম্যান্স প্রদানে সক্ষম। আমরা সেই সুবিধাটিই গ্রহণ করেছি। আর একটি ফোনের মধ্যেই পিসির সব সুবিধা যুক্ত করার কাজটি আমরাই প্রথম করতে পেরেছি বলে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। সামনের দিনগুলোর দিকে তাকালে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের কাজ করবে। উইন্ডোজ ৯-এ না হলেও উইন্ডোজ ১০-এ গিয়ে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। তবে এই প্রক্রিয়ায় আমরা এগিয়ে থাকলাম।’ ডেস্কটপের সব অ্যাপ্লিকেশন সমর্থন করলেও এসব অ্যাপ্লিকেশনকে স্মার্টফোনের পর্দার উপযোগী করে পুনরায় ডিজাইন করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ডেস্কটপের অ্যাপ্লিকেশন সমর্থন করায় শুরু থেকেই প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ্লিকেশন থাকছে উবুন্টুর জন্য। আর এইচপিএমএল ৫ সমর্থিত অ্যাপ্লিকেশনগুলোও ব্যবহার করা যাবে এতে।
