এমনিতে কত কারণেই তো সন্তানকে শাসন করেন বাবা-মা। কখনও হয়তো বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটানোর জন্য, কখনো রাত জেগে টিভি দেখার জন্য আবার কখনও বা মাত্রাতিরিক্ত ভিডিও গেম খেলার কারণে বকুনি শুনতে হয় সন্তানকে। এতে স্বভাবতই মন খারাপ হয় সন্তানদের। তবে তাই বলে মা-বাবার শাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তাদের পানীয়তে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার সাহস কী কেউ করেন? অন্য সবার ক্ষেত্রে উত্তরটা যাই হোক না কেন এই আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এক টিনেজারের জন্য কিন্তু এটাই সত্য। গণমাধ্যমে নাম প্রকাশ না করা এই টিনেজ তরুণী সম্প্রতি তার মা-বাবার মিল্কশেকে (এক ধরনের পানীয়) ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রকলিন শহরে রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাত দশটার পর ইন্টারনেট ব্রাউজ না করার জন্য প্রায়ই এই টিনেজারকে অনুরোধ করতেন তার বাবা-মা। তবে বেশ কিছুদিন বুঝানোর পরও কাজ না হওয়াতে রাতে ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেন টিনেজারটির অভিভাবকেরা। কিন্তু এতে বিরক্ত হয়ে বেশ অনেকদিন থেকেই রাতে নেট ব্রাউজ করার ফন্দি আঁটছিল মেয়েটি। অবশেষে এক বন্ধুকে দেওয়া প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে মধ্যম মাত্রার বেশ কিছু ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি রাতের খাবারের পর বাবা-মায়ের মিল্কশেকে মিশিয়েও দেয় সে। ওষুধ মেশানোর পর মিল্কশেকের স্বাদে খানিকটা পরিবর্তন টের পেয়ে পানীয়টির খুব সামান্য অংশই পান করেন মেয়েটির বাবা-মা। তবে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওষুধের এই সামান্য মাত্রাই যে যথেষ্ঠ ছিল সেটা তারা টের পান পরদিন সকালে। দীর্ঘ ঘুম দিয়ে ওঠার পর তারা যখন আগের রাতের কিছুই ভালোভাবে মনে করতে পারছিলেন না তখনই তাদের সন্দেহ হয়। মিল্কশেকের বাকি অংশ পরীক্ষা করে এতে কিছু মেশানোর আলামতও খুঁজে পান তারা। আর তাদের এই সন্দেহের মুখেই বেরিয়ে আসে সত্য ঘটনা। এদিকে ঘরোয়া বিষয় হলেও ঘুমের ওষুধের এই অপব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আর এ কারণে ইতোমধ্যেই বাবা-মাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে ওই টিনেজার ও তার বন্ধুকে।
