আয়োজন

জামদানি প্রদর্শনী

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪১
জামদানির ঐতিহ্যবাহী গৌরবের ধারাবাহিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফ্যাশন হাউস অঞ্জনস দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করেছে জামদানি বিপণন প্রদর্শনী। গত ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে অঞ্জনসের আউটলেটে ১৯ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কানিজ আলমাস খান, ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা এবং ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বলেন, ‘জামদানি বাঙালি জীবনের বিশেষ সম্পদ। এর ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য এখনও সমাদৃত। শুধু দেশে নয়, বিদেশিদেরও আমাদের জামদানির প্রতি আগ্রহ বেশি। আমাদের সবার জামদানির এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিজাইনার ও গবেষক চন্দ্র শেখর সাহা এবং অঞ্জনসের চিফ ডিজাইনার লায়লা খায়ের কনক। প্রদর্শনীতে রয়েছে রূপগঞ্জের তাঁতিদের তৈরি নানা রকম ডিজাইনের জামদানি শাড়ি। পাশাপাশি জামদানি মোটিফে অঞ্জনসের নিজস্ব ডিজাইনে গয়না, হোম টেক্সটাইল, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজও স্থান পেয়েছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত অঞ্জনসের বনানী, ওয়ারী ও বেইলি রোড শাখা চলবে এ প্রদর্শনী। জামদানির গৌরবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফ্যাশন ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহার তত্ত্বাবধানে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে অঞ্জনস। নানা মোটিফের বৈচিত্র্যে তৈরি জামদানি শাড়ি আছে এখানে। হাফসিল্ক ও সুতি কাপড়ে তৈরি এসব শাড়িতে পাওয়া যাবে বাহারি রঙের খেলা। আছে একই রঙের বিভিন্ন শেডে আর ডিজাইনের শাড়িও। রূপগঞ্জের ডেমরায় জামদানিপল্লীর তাঁতিদের পারিশ্রমিকের অভাব থাকায় এখন আর তারা এ পেশায় থাকতে চাইছেন না। জামদানির আদি মোটিফও হারিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে জামদানি নিয়ে ভিন্নধরনের আয়োজনের প্রশংসা করেন চন্দ্রশেখর সাহা। অঞ্জনসের চেয়ারম্যান লায়লা খায়ের কনক বলেন, ‘একটি জামদানি শাড়ি বুননে দুজন তাঁতির ন্যূনতম সময় লেগেছে ১৫ দিন, সর্বোচ্চ ছয় মাস। মোটিফের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এ সময় লেগেছে। এ ক্ষেত্রে তাদের পারিশ্রমিক চিন্তা করে নির্ধারণ করা হয়েছে জামদানির মূল্য।’ তাঁতিদের হাতে লাভের উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘জামদানি মোটিফের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবারে প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজসহ আরো বেশ কিছু ফ্যাশন অনুষঙ্গ। ঘর সাজানোর জন্য পর্দা, কুশন, ফটোফ্রেম ও জুয়েলারি বক্সও তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি। আগামীতে এমন প্রদর্শনী আরও বড় পরিসরে আয়োজনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অঞ্জনসের এই আয়োজন মূলত এই দেশের জামদানিকে নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং জামদানি শিল্পের সাথে জড়িত শিল্পীদের উত্সাহী করা।’ প্রদর্শনীটি স্থান :বনানী :বাড়ি-৩জি, রোড-১১, বনানী, বেইলি রোড :১/সি নিউ বেইলি রোড, ওয়ারী :১৮ র্যাংকিন স্ট্রিট ওয়ারী।