পরতে পরতে অবাক হওয়ার বিষয়আশয়। ডাবের সন্দেশ শেষ হতেই এলো, ময়মনসিংহের মুরগি ভাজা। না, এই ময়মনসিংহ কলকাতার ময়মনসিংহ না। এটা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের একটা জনপ্রিয় খাবার। হাড় ছাড়া মুরগির মাংস ভাজা। এর শুধু গন্ধটাই আপনার অর্ধেক ভোজ সম্পন্ন করে দেবে। আর যখন মুখে তুলবেন তখন বাবুর্চিকে একটা চুমু খেতে মন চাইবে। ভাজা মুরগি খেতে যখন মুখে একটু ঝাল অনুভূত হচ্ছিল, তখনই এলো প্রাণ ঠাণ্ডা করা শরবত। স্বচ্ছ গ্লাসে ঘাম তোলা পানিতে ভাসছে গাঢ় সবুজ পুদিনা পাতা আর এক চিলতে লেবু। খাওয়ার আগেই মনে হয়েছে এই পানীয়টাও আমার অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণ করবেন না। হলোও তাই। ডাবের পানিতে পুদিনা পাতা আর লেবু মিশালে এমন অসাধারণ একটা পানীয় হয়, তা বোঝায় কোমলপানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনও অজানা। নয়তো, এটাকেও হয়তো বোতলজাত করত।
অনেকক্ষণ ধরেই রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার একটা বিশেষ খাবার খাওয়ানোর জন্য উসখুস করছিলেন। এবার এলো সেই খাবার। ধবধবে সাদা এক বাটি দই সাজানো হয়েছে একফালি লেবু আর একটা টুকরা লাল কাচামরিচ দিয়ে। এটা নাকি একটা মাছের রেসিপি। মন বলছিল, এবার বুঝি একটা বাজে কিছু মুখে পড়তে যাচ্ছে। ছুরির আঁচড়ে দই চিড়ে বেরিয়ে এলো এক টুকরা শ্বেতশুভ্র মাছ। দই সহ কিছুটা মাছ মুখে পুরতেই মনে হলো এটাই বুঝি স্বর্গের তালিকায় থাকা প্রথম মাছের রেসিপি। নরম মাছে লেবুর গন্ধ আর স্বাদহীন দইয়ের একটা মালাই পরত। সবমিলিয়ে মুখের ভেতর একটা মোলায়েম পরশ দিয়ে গেল যেন। এর নাম গন্ধরাজ ভেটকি। দেখতে, শুকতে আর খেতে সবদিক থেকেই এটা গন্ধরাজের সমতুল্য। আর স্বাদ একেবারেই ভিন্ন। কোনো প্রকার তেল-মসলা ছাড়া তাজা মাছের স্বাদ এত সুস্বাদু হতে পারে জানলে বোধহয় সত্যেন সেন ‘মসলার যুদ্ধ’ বইটা আর লিখতেন না।
ওহ! ক্যালকাটা একটি আন্তর্জাতিক চেইন রেস্টুরেন্ট। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে এর শাখা আছে। গত ২ বছর ধরে ঢাকার বনানী ১১ নম্বর সড়কে এই রেস্টুরেন্টটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাঙালি খাবারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তুলতেই ওহ! ক্যালকাটার যাত্রা হয়। ২০০১ সালে কলকাতায় প্রথম এই রেস্টুরন্টটি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে পুরো ভারতজুড়ে ১২ শাখায় বিস্তৃত হয় এই রেস্টুরেন্টটি বাঙালি খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আর ঢাকাতে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু হয় ওহ! কলকাতার। খুব শিগগিরই তারা চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারেও সেবা শুরু করার কথা ভাবছেন। দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে বিকেল ৩টা ৩০ পর্যন্ত এখানে যে কেউ দুপুরের খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। দুপুরে আলা-কার্ট মেন্যুর পাশাপাশি পাওয়া যাবে বুফে খাবার। ৫৭৫ টাকা আর সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট গুনে যে কেউ এখানে খাবার খেতে পারবেন। আর আলাকার্টে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরেও যোগ হবে ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ। রাতের খাবারের জন্য যেতে হবে ৬টা ৩০মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে। এখানে গেলে গন্ধরাজ ভেটকি, ডাব চিংড়ি আর খাসির কশা মাংস খেতে ভুলবেন না। তবে মনে রাখবেন, এখানে গরুর মাংসের কোনো খাবার পাওয়া যায় না।
ওহ! ক্যালকাটার ঠিকানা
কারিশমা সার্ভিস, বাড়ি-৪৯, ৬ তলা, ব্লক-এইচ, সড়ক ১১, বনানী, ঢাকা। ফোন :৮৮১২৭৬৩-৬৪।
