নওগাঁর সাপাহার উপজেলা ছাত্রদলের কোন্দল চরমে

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৬
নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়ে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদের বিরুদ্ধে পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের উল্লেখিত দুই নেতার পরস্পর বিরোধী অবস্থান করলে নতুন বছরের প্রথমদিন সাপাহার উপজেলায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্বন্দ্বে জড়িত দুই নেতার দাবি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের সব ধরনের আয়োজন তারা করেছিলেন কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, ছাত্রদলের বিবাদমান দুটিপক্ষ একই সময়ে একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি আহ্বান করায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা দেখা দেয়। সে কারণে দলীয় কার্যালয়ের বাহিরে ছাত্রদলের কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জেলা পরিষদের ডাকবাংলো মাঠসহ স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে নানা কর্মসূচি পালন করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ৩১ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি আক্কাস আলীর নেতৃত্বে বিদ্রোহী একটি পক্ষ একই সময়ে একই স্থানে পৃথক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদের অভিযোগ— সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা না করে তার একক সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করায় আলাদা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর ফলে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাপাহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ওইদিন রাতে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে না পারায় এক পক্ষ আরেক পক্ষের কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে উপজেলা বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, উপজেলা ছাত্রদলের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে ষড়যন্ত্র করে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে তার স্থলে অনির্বাচিত একজনকে দায়িত্ব দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করায় এই বিরোধের মূল কারণ। জানা যায়, ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর সাপাহার উপজেলা ছাত্রদলের কাউন্সিলে সরাসরি ব্যালটে জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন কর্মী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ। জাহাঙ্গীর আলম ভোট পেয়েছিলেন ৩৭টি। অন্যদিকে আবু দাউদ ভোট পান মাত্র ৭টি। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে উপজেলা বিএনপির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিসহ জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নেকদৃষ্টি না থাকার কারণে চূড়ান্ত কমিটি ঘোষণার সময় জাহাঙ্গীরের জায়গায় আবু দাউদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় সাপাহার উপজেলা ছাত্রদলের ১৩৯জন নেতা-কর্মীর একযোগে পদত্যাগ করার ঘটনাও ঘটে। পদত্যাগী ছাত্রদল কর্মীরা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের পক্ষ অবলম্বন করে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ অবলম্বন করে সাবেক সভাপতি আক্কাস আলী ও তার সমর্থকরা। সূত্র জানায়, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি বনাম সাধারণ সম্পাদকের মতবিরোধ সে সময় থেকেই চলে আসছে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের কর্মসূচিকে ঘিরে।