সব নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি। ‘নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে চলবে আন্দোলন। শিক্ষকরা বুকে-পিঠে লিখেছেন ’একদফা এক দাবি এমপিও কবে দিবি’ ইত্যাদি শ্লোগান।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. এশারত আলী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের বার বার আশ্বাসের পরও তাদের দাবির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষকদের বৈঠকের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক এবং নন-এমপিও শিক্ষকদের দাবি নিয়ে এক ধরনের ধূম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিরীহ শিক্ষকরা মনে করছেন, তারা এক ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন। এ ধরনের অবস্থা দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে আশা করে না শিক্ষক সমাজ। তিনি বলেন, লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট থেকে শিক্ষকরা আমরণ অনশন শুরু করবেন। এছাড়া শিক্ষকদের সামনে বিকল্প কিছু নেই। অর্থ সঙ্কটের কারণে ৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও বিশ্বাসপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিলীপ কুমার রায় ধার-দেনা ও অভাব-অনটনে জর্জরিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঐ শিক্ষক ’৯৮ সাল থেকে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছিলেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং এমপিওভুক্তির আশায় দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন। সভাপতি বলেন, মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ-কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৭ হাজারের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এমপিওভুক্তি খাতে অর্থের অভাবের কথা বলা হচ্ছে; কিন্তু শিক্ষাখাতে বড় ধরনের বরাদ্দ রয়েছে। ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করতে যাচ্ছে সরকার। নন-এমপিও শিক্ষকরা সরকারের এসব সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানান। অথচ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরও এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত্ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।
