ভায়োলিন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৪
লিনা খুব চঞ্চল। ঘরের এক কোণা থেকে অন্য কোণা সর্বত্র ছুটে বেড়ায়। লিনা তার বাবা-মা ও বুড়ো দাদুর সাথে তিন রুমের ধানমন্ডির একটা বাসায় থাকে। লিনার কাছে তার বাসার প্রত্যেকটা জায়গা চেনা। প্রত্যেকটা আসবাবপত্রের খুঁটিনাটি তার চেনা। কিন্তু তার দাদুর রুমে একটা ড্রেসিং টেবিল রয়েছে। সেটাও সে দেখেছে এবং সেখানে দাঁড়িয়ে সে মাঝে মাঝে সাজগোজ করে। একটা ড্রয়ার আছে যেটা সর্বদা চাবি দিয়ে বন্ধ করা থাকে। আর চাবি তার দাদুর কাছে থাকে। সে তার দাদুকে কয়েকবার বলেছে কিন্তু তখন তার দাদু বেশ আশ্চর্য হাসি দিয়ে বলেছে পরে আরেকদিন। একদিন সে তার দাদুর কাছে জেদ ধরল আমাকে ওটা খুলে দাও বা ওটার ভেতর কি আছে তা আমাকে বল। লিনার চাপাচাপিতে তার দাদু বলতে বাধ্য হল। তার দাদু বলল, ওই ড্রয়ারে একটা ভায়োলিন আছে। লিনা বেশ আশ্চর্য হয়েই বলল, ভায়োলিন? তারপর লিনা তার দাদুকে প্রশ্ন করল তাহলে ওটা কেন ড্রয়ারের ভেতরে। প্লিজ দাদু ওটা আমায় বের করে দাও না। আমি ভায়োলিন খুব ভালো বাজাতে পারি এবং শুনতেও খুব পছন্দ করি। তখন তার দাদু বলল, কিন্তু তুমিতো ভায়োলিন বাজানো শিখ নাই। তখন লিনা বলল- জানি না দাদু। একদিন আমার বান্ধবী সৌরির বাসায় গিয়ে দেখলাম ওর বিছানায় ভায়োলিন। আমি হাতে নিতেই ওটা আমি বাজাতে পারলাম। দাদুর মন ধক করে উঠল। এমন সময় লিনার আম্মু লিনাকে ডাক দিল। পরদিন লিনার মা ও বাবা একটু কাজে দু’জনই বাইরে গেল আর লিনাকে তার দাদুর কাছে রেখে গেল। লিনার দাদু একটু গোসলে গেল। এই সুযোগে লিনা সেই চাবি নিয়ে বন্ধ ড্রয়ারটি খুলল। দেখল খুব সুন্দর একটা ভায়োলিন। লিনা ভায়োলিনটা নিয়ে বাজাতে লাগল। সে পাগলের মত বাজাতেই লাগল। কিছুক্ষণ পর তার বাবা-মা ফিরে এল। তারা যা দেখল তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। তারা দেখল লিনা বিছানার ওপর শুয়ে আছে। আর তার দাদুকে পাওয়া গেল বাথরুমে চোখ-মুখ বিকৃত অবস্থায়। দাদু আর লিনাকে হসপিটালে নিতে নিতে দাদু মারা গেলেন আর লিনা চলে গেল কোমায়। এরপর লিনার বাবা-মা সেই ধানমন্ডির বাসাটা ছেড়ে দিল। আর আসবাবপত্রগুলো দান করে দিল। এরপর লিনাকে নিয়ে লিনার বাবা-মা বিদেশে চলে যান। লিনার বাবা-মা’র কাছে মনে হল, কি হয়েছিল সেদিন। লিনার বাবা-মা আকুল হয়ে থাকলেন। কবে লিনা কোমা থেকে ফিরবে আর কবে তারা সেদিনের কথা জানতে পারবে।