রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সাবাস বাংলায় সেই আড্ডাটা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৭
সাবাস বাংলাদেশ। স্মারক ভাস্কর্য। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিকে চির স্মরণীয় করে রাখতে তৈরি হয় এটি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের দক্ষিণ পার্শ্বে ভাস্কর্যটির অবস্থান। এর উপরে বসেই চলে বন্ধুদের নানা রঙের গল্প। চলে সামনের দিনের পরিকল্পনা নিয়ে মিষ্টি আলাপ চারিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিললো একদল স্বপ্নচারী শিক্ষার্থীর। তাদের দিকে আগাতেই মিষ্টি হেসে জানিয়ে দিলেন আড্ডার রকম ফের! পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত রাসেল। আমি পড়ার ফাঁকে শুধুই হাসতে ভালোবাসি। অযথা কারো সাথে কথা বলে সময় নষ্ট করা ভালো লাগে না। তবে মজার সময় কাটে বন্ধুদের সাথে। রাসেলের কথাগুলো উল্ট বলে হেসে উড়িয়ে দিলেন ফিরোজ। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই বাহারি অভিজ্ঞতা। মাঠে বল নিয়ে খেলা করা, পত্রিকার কক্ষে গিয়ে বিনোদনের পাতা পড়া, নিয়োমিত পড়ার টেবিলে বসা নিয়েও চিন্তা করেন ফিরোজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট টিম নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয় পাভেলকে। খেলা ছাড়া শরীর ভালো থাকে না বলেই খেলে যাই। এটা আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষ করে এভাবে অনেক জায়গায় বিচরণ করে তারা। তাদের কাজই হলো পড়ার ফাঁকে আড্ডা দেয়া। তবে সাবাস বাংলায় আড্ডাটা যেনো বেশি টানে। সাবাস বাংলাদেশের পিছনেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন। বিকাল বা সকাল সকাল সারাক্ষণ এখানে শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা লেগে থাকে। সিনেটের ভিতরে যখন চলে বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। তখন এর বাহিরে চলে বন্ধুদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের আড্ডা। কেউবা আবার প্রিয়জনের হাত ধরে চলে আসে সিনেটের আঙ্গিনায়। সামনে সবুজ গাছের সারি আর পাতার ফাঁক দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি রোদের ফোঁটায় চলে আনন্দের কথা। তাদের সময়ের যে পরিমাণ যে কম তা বোঝা যায় ঘন্টার পর ঘন্টা সেখানে বসে থাকা দেখে। সাবাস বাংলাদেশের মাঠে সর্বদায় যাদের দেখা মেলে তারা হলেন ফুটবল ও ক্রিকেটার। সকালে ফুটবল দলের দেখা গেলে বিকালে মাঠ ভর্তি আওয়াজ করে ক্যাম্পাস প্রবেশ পথকে মাতিয়ে তোলে উদ্যমী ক্রিকেটাররা। তাদের ব্যাট-বলের শৈল্পিক শিল্পের দ্বারা সকল শিক্ষার্থীদের মনকে ভরে তোলে সব সময়। গল্পের ফাঁকে অনেক সময় ছক্কা মারা বলও কুরিয়ে দেয় বাহিরে গল্পে মেতে থাকা প্রেমিক যুগলের একজন। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পাঁচটি বছর শেষ করে পারি জমায় জীবন যুদ্ধে। চলে জীবন সংগ্রাম। চলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। বাড়ে জীবনের পরিধি। অনেকেই ক্যাম্পাসের মায়ায় সুযোগ পেলেই চলে আসে সাবাস বাংলাদেশ।