বর্ষা শেষে সুজানগরে শুঁটকি মাছ উত্পাদনের ধুম পড়েছে। কম খরছে লাভ বেশি হওয়ায় প্রকৃত মত্স্যজীবীদের পাশাপাশি সাধারণ মত্স্যজীবীরাও শুঁটকি মাছ উত্পাদন করছেন। তবে এ বছর আড়তে শুঁটকির বাজার মন্দা বলে জানিয়েছেন কয়েকজন মত্স্যজীবী।
জানা গেছে, সুজানগর পৌরসভাসহ উপজেলার দুলাই, রানীনগর, হাটখালী এবং মানিকহাট ইউনিয়নে প্রায় একশ শুঁটকি চাতাল রয়েছে। এ বছর ওই সকল চাতালে শুঁটকি মাছ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার মণ। ইতোমধ্যে বর্ষা শেষে এবং শীতের শুরুতে উপজেলার মত্স্যজীবীরা তাদের বাড়ির আশপাশে, আবার কেউবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিলের পাড়ে বড় বড় বাঁশের চাতাল তৈরি করে শুঁটকি উত্পাদন করছেন।
উপজেলার মসজিদপাড়া গ্রামের মত্স্যজীবী আব্দুল করিম বলেন, আমরা কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর উপায়ে শুঁটকি মাছ উত্পাদন করি। সে কারণে দেশ এবং দেশের বাইরে সুজানগরের শুঁটকি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে সৈয়দপুরের শুঁটকির আড়তে সুজানগরের শুঁটকি মাছের চাহিদা বেশি। সে কারণে প্রত্যেক বছর ১০/১৫ হাজার মণ শুঁটকি মাছ সৈয়দপুরের শুঁটকির আড়তে বিক্রি করা হয়। ইতোমধ্যে চারশ-পাঁচশ মণ শুঁটকি মাছ ওই আড়তে বিক্রি করা হয়েছে। তবে এ বছর আড়তে শুঁটকির বাজার মন্দা।
মিঠুসহ আরো কয়েকজন মত্স্যজীবী জানান, মাছ কেনা এবং শ্রমিকসহ এক মণ পুঁটি মাছ শুকাতে খরচ হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজারে এক মণ পুঁটি মাছের শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকায়, যা প্রায় উত্পাদন খরচের সমান। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শুঁটকি উত্পাদন করতে হয়। ফলে বাজার মন্দা হলে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান হয়। তা ছাড়া, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় এখানে উত্পাদিত বিপুল পরিমাণ শুঁটকি মাছ যথাযথভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয় না বলেও জানান তারা।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ভবিষ্যতে উপজেলার শুঁটকি উত্পাদনকারী মত্স্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা যাতে সরকারি সহায়তা পান, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
