ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর জেলার সীমান্ত পথে ভারত থেকে চোরাচালান হয়ে রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা ও কার্নিসান ফুল আসছে। এতে আমাদের দেশের ফুলের দর পতনে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে ফুলের দাম একটু বাড়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছিল। চোরাপথে ভারতীয় ফুল আসায় দাম পড়ে গেছে বলে চাষিরা জানান। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঘিঘাটি গ্রামের বড় ফুলচাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, সারা বছর ধরে চাষিরা কম দামে ফুল বিক্রি করেছে। মাস খানেক ধরে ফুলের দাম চড়েছে। ঝোড়া রজনীগন্ধা প্রতি কেজির দাম ৩শ টাকা থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। ভারত থেকে চোরাপথে রজনীগন্ধা আসার পর প্রতিকেজির দাম কমে একশ ২০ টাকা থেকে দেড়শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিনাইদহের মহেশপুর এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বস্তা বোঝাই করে ঝোড়া রজনীগন্ধা ফুল বাংলাদেশে ঢুকছে। ভারতীয় রজনীগন্ধা প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা দরে এপারের চোরাচালানিরা কিনে বাসে ঢাকায় পাঠাচ্ছে বলে জানা গেছে। চোরাপথে আসা ভারতীয় কম দামের ফুলের সাথে আমাদের দেশের চাষিরা প্রতিযোগিতায় পারছে না বলে তারা জানান।
যশোরের গদখালী ফুলচাষি সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, শীত মৌসুমে গোলাপ, জারবেরাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের দাম বেড়েছিল। ফুলচাষিরা দুটি পয়সা পাচ্ছিল। বাংলাদেশে ফুলের দাম বৃদ্ধি পেলে ভারতীয় ফুল চোরাপথে বাংলাদেশে ঢোকে। ভারতীয় গোলাপ, জারবেরা ফুলের সাথে নতুন প্রজাতির কার্নিসান ফুল চোরাচালান হয়ে আসছে। এতে করে বাংলাদেশে গোলাপ ও জারাবেরার দাম পড়ে গেছে। প্রতি ১শ গোলাপের দাম ৫শ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন তা কমে আড়াইশ টাকাতে নেমেছে। চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ফুলচাষি সমিতির সভাপতি জানান।
যশোর বিজিবির ২৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ভারতীয় অন্য পণ্য সহজেই শনাক্ত করা যায়। কিন্তু ভারতীয় ও বাংলাদেশি ফুল একই রকম দেখতে। বিজিবির সদস্যদের পক্ষে ভারতীয় ফুল শনাক্ত করা কঠিন। তবে বিষয়টির প্রতি বিজিবি নজর রাখবে বলে তিনি জানান। চুয়াডাঙ্গা বিজিবির ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গাজী মো. আসাদুজ্জামান একই ধরনের কথা বলেন।
