ঘুমন্ত নারীর চুল, পরনের কাপড়ও নিচ্ছে কেটে

বাগেরহাট শহর ও শহরতলির মানুষ চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
চোরের উপদ্রবে বাগেরহাট শহর ও শহরতলির মানুষ অতিষ্ঠ। প্রায় প্রতিদিনই এলাকার কোন না কোন বাড়িতে চুরি হচ্ছে। দিনের বেলা জনবহুল স্থান থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে সাইকেল, মোটর সাইকেল, নসিমন এমনকি প্রাইভেট কার। চুরি করতে ব্যর্থ হয়ে বেপরোয়া চোর বাড়ির পোষা কুকুরের মুখ সুপার গ্লু দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু চোর আটক হওয়া বা মালামাল উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে খুব কমই। চোরের তত্পরতা প্রতিরোধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। বাগেরহাট মডেল থানার নথি থেকে দেখা যায়, পুরো ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত থানায় মন্দিরের বিগ্রহ,চারটি মোটর সাইকেল, একটি গাড়ি চুরি এবং অজ্ঞান করে ঘর থেকে মালামাল চুরির তিনটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র আরও খারাপ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত এক মাসে বাগেরহাট শহর ও শহরতলি এলাকায় ঘরে ঢুকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে অন্তত নয়টি। এ ছাড়া আটটি বাইসাইকেল, ছয়টি মোটর সাইকেল, একটি নসিমন ও একটি প্রাইভেট কার চুরি হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উল্লেখিত সময়ে বাগেরহাট শহরের আদালত এলাকা থেকে দুটি, সোনালী ব্যাঙ্ক প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি, রাহাতের মোড় থেকে একটি এবং শালতলা এলাকা থেকে দুটি মোটর সাইকেল চুরি হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের সামনে থেকে একটি নসিমন ও বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলের সামনে থেকে একটি প্রাইভেট কার চুরি হয়েছে। প্রতিটি ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলেও পুলিশ এ সব ঘটনার কোন সুরাহা করতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার রাতের কোন এক সময়ে চুরি হয়েছে বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উচ্চমান সহকারী সেলিনা খাতুনের কোয়ার্টারে। নীচতলার জানালার শিক ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেলিনা ও তার স্বামীকে অচেতন করে চোর স্বর্ণালংকার ও দুটি মুঠোফোন নিয়ে গেছে। তবে চোর যাবার আগে মুঠোফোন থেকে সিমকার্ড দুটি খুলে রেখে গেছে এবং সেলিনার মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের অর্ধচেতন অবস্থায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইভাবে ২৩ ডিসেম্বর রাতে শহরের আলিয়া মাদ্রাসা সড়কে আরেকটি সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে বসবাসকারী এক কর্মচারীর পরিবারকে অচেতন করে চোর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। এ সময় চোর ঐ কর্মচারীর ঘুমন্ত স্ত্রীর পরিধেয় কাপড় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে নিয়ে যায়। পরে ২৪ ডিসেম্বর রাতে শহরের মিঠাপুকুর পাড় এলাকায় আসাদ খন্দকারসহ পরিবারের চার সদস্যকে অচেতন করে ঘরে ঢুকে চোর নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, বাগেরহাট মডেল থানায় তালিকাভুক্ত চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ জন চোর রয়েছে। এদের অধিকাংশই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। তাছাড়া যশোর, পিরোজপুর, বরিশাল ও বাগেরহাটকেন্দ্রিক অন্তত পাঁচটি মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটকে পুলিশ সনাক্ত করেছে। ২০১২ সালে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের অন্তত ছয় জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে এবং নয়টি চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করেছে।