নোয়াখালীবাসীর কাছে নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৮
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের চার বছর পূর্তির পর নোয়াখালীতে প্রথম এক বিশাল জনসভায় নোয়াখালীর মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি কথা দিয়ে গেলাম আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর প্রত্যেকটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে। কোথাও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রত্যেকটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। ভোটের মালিক আপনারা। যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিবেন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হবে। কেউ ভোট কেড়ে নিবে, সিল মারবে তা হতে দেয়া হবে না। একইসঙ্গে নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালীর জেলা শহরের হাউজিং এস্টেট মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণকালে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা নোয়াখালীবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতিটি এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগাবো। শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চাই, আপনাদের সহযোগিতা চাই। আগামী নির্বাচনে আপনাদের কাছে আমার আবেদন, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আরেকবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিবেন। শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ওনার অনেক দুঃখ। আমরা যখন ৯৬ সালে ক্ষমতায় আসি, তখন আমরা দেশের সাক্ষরতার হার ৪৫ ভাগ থেকে ৬৫ ভাগে উন্নীত করি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা কি দেখলাম? আমাদের সাক্ষরতার হার ৬৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগে নেমে গেলো। আমার প্রশ্ন পাঁচ বছরে শিক্ষার হার বাড়ানোর পর তা কমলো কেন? শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের জীবনে শান্তি আসে, নিরাপত্তা আসে। আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সন্ত্রাস, লুটপাট, নির্যাতন হয়। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ২০০১ সালে বিএনপি ভোট চুরি করেছিলো। তারপর তাদের অত্যাচার ও সীমাহীন নির্যাতন নেমে এসেছিল। এই নির্যাতন ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তারা গ্রেনেড হামলা করেছে। হাতিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা তাজুলকে নির্যাতন করেছে। নোয়াখালীর হাজার হাজার নেতা- কর্মী নির্যাতিত হয়। নোয়াখালীতে বিএনপির দখলবাজি, লুটপাট, অত্যাচার, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ব্যাপকভাবে চলতে থাকে। এমনভাবে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছিল যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা যখন সরকারে আসি তখন বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের দেশ ছিল। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের বদনাম ছিলো। বিএনপির আমলে বাংলাদেশ পাঁচ পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে সে বদনাম ঘুচিয়েছি। আমরা কৃষকদের ছাড় দিয়ে সারের দাম কমিয়েছি। ১০ টাকায় এখন কৃষক ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাংলাদেশ আর দরিদ্র থাকবে না। যারা নদী ভাঙ্গা, ঘর-বাড়িহারা তাদের জন্য আমরা ঘরবাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। আমরা যখন ৯৬ সালে সরকারে ছিলাম সুবর্ণচরের নিঃস্ব ভূমিহীন মানুষকে ঘর-বাড়ি তৈরি করে প্রায় ৪ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করে দিয়েছি। জাতির পিতা ক্ষমতায় থাকতে চর জব্বর, চর আলেকজান্ডারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প শুরু হয়। চরাঞ্চলের মানুষ যেন কষ্ট না পায় সে চরের মানুষের উন্নয়নের জন্য আমরা বিশেষ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। স্মরণকালের বিশাল জনসমাবেশে আনন্দে আপ্লুত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিগত নির্বাচনে আপনারা আমাদেরকে ২টি আসন উপহার দিয়েছেন। সেজন্য নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সংগ্রামী শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি নোয়াখালীবাসীর জন্য বিশেষ উপহার নিয়ে এসেছি। সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র উদ্বোধন করেছি। এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাবে এবং নোয়াখালী শিল্প ও কলকারখানায় ব্যবহূত হবে। নোয়াখালীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবো। আমি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন করেছি। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম তলা ভবন, কবিরহাট, সোনাইমুড়ী উপজেলা কমপ্লেক্স, নোয়াখালীর মুছাপুর ক্লোজার জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মুছাপুর ক্লোজার, এখানে নতুন ডাকাতিয়া ও পুরাতন ডাকাতিয়া এবং ফেনী নদীর জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহী উদ্দীন খান আলমগীর, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেল- মন্ত্রী মজিবুর রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক, মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী, বীর বাহাদুর এমপি, ফরিদুর নাহার লাইলী এমপি, আবু তাহের, আবদুল মমিন বিএসসি, মোজাম্মেল হক মিলন, ডা. জাফর উল্যা, এটিএম এনায়েত উল্যা, এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, অধ্যাপক ওয়ালিউল্যা, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ উল্যা, আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, সহিদউল্যা খান সোহেল ও এডভোকেট বেলাল হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।