ক্রেতার চাইতে দর্শনার্থীই বেশি

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৮
বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের ছড়াছড়ি থাকলেও এখনো জমে ওঠেনি কেনাবেচা। বিকাল থেকে দর্শনার্থীর ভিড় বাড়লেও সকালের দিকে বেশ ফাঁকাই থাকছে মেলা প্রাঙ্গণ। দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্টল দেখলেও তেমন একটা কেনাকাটা করছেন না। এ প্রসঙ্গে গতকাল বাণিজ্য মেলায় আসা আজিম জানান, পুরনো ও রদ্দি মার্কা পণ্য অনেক স্টলই বিক্রি করে থাকে। তাই তাড়াহুড়ো না করে একটু দেখে শুনে কিনলে ভাল জিনিসটা কেনা যায়। এছাড়া মেলাতো কেবল শুরু হয়েছে। যাক না আর কয়েকটা দিন। একইকথা বললেন আরেক দর্শনার্থী এহসান কবির। তিনি বলেন, আজ আমি একাই মেলায় এসেছি। বলতে পারেন ঘুরতে এসেছি। সামনে ছুটির কোন একটা দিনে পরিবার নিয়ে আসব। তখন কেনাকাটা করবো। এদিকে কেনাকাটা এখনো জমে না ওঠায় অনেকটা হতাশ বিক্রেতারা। তবে তাদের আশা, ১৫ দিন পর মেলা জমে উঠবে। আখতার ফার্নিচারের মিজান বললেন, হরতাল, শেয়ারবাজারের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মেলায়। বিক্রি নাই। অনেকেই আসছেন, দেখছেন। কিন্তু কেনাকাটা খুব ভালো নয়। পারটেক্স ফার্নিচারের হাফিজও বললেন একই কথা। আরএফএল-এর বিক্রেতা শাহিনুর রহমান বললেন, কেনাকাটা একদম হচ্ছে না, তা নয়। তবে জমে ওঠেনি। তিনি স্টলে আগত দর্শনার্থীদের দেখিয়ে বলেন, কেনাকাটা কম হলেও ভিড়ের কমতি নেই। তিনি বলেন, মেলায় একসাথে ক্রেতারা কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক পণ্য, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, জুয়েলারি, সিরামিক্স পণ্য, আসবাবপত্রসহ প্রায় সব ধরনের পণ্য পান। তাই মেলা জমবেই। আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ-এর স্পিড এনার্জি ড্রিংকস-এর প্যাভিলিয়নের সমীর কুমার বলেন, মেলা পুরোপুরি জমে না ওঠার আরেকটি কারণ প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি। আশা করছি খুব শিগগির মেলা পুরোপুরি জমে উঠবে। এদিকে মেলা জমে না ওঠায় এর প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে। গতকাল পর্যন্ত মাত্র ৮ লাখ টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম ইউনুস আকবর গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, যে পরিমাণ ভ্যাট আদায় হয়েছে তা একদম কম নয়। ভ্যাট আদায় আরো বাড়বে। আশা করছি মেলা থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট আদায় সম্ভব হবে। ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই। প্রতিদিন দুই গ্রুপে ১১ জন করে মোট ২২ জন দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান। ছাড় নিয়ে অভিযোগ এবারের মেলায় চলছে বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের ছড়াছড়ি। কোন কোন পণ্যে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে এই ছাড়ের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের। গতকাল বাণিজ্য মেলায় আসা সুর্বণা জানালেন, এসব ছাড়ের কথা বলা হলেও দেখা যায় বেশি দাম লিখে সেখান থেকে ছাড় দেয়া হচ্ছে। অথচ বাইরে ছাড় ছাড়া সেই পণ্যের একই দাম। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিক্রেতারা। মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ মেলায় আগত দর্শনার্থীদের কোন অভিযোগ থাকলে তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জানাতে বলেছেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ বাণিজ্য মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এবার ৪৬টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২৩টি। তবে এবারের মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। গত বছর ৪৭টি প্রতিষ্ঠান স্টল দিলেও এবার ১২টি দেশের ৩১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মাসব্যাপী এই মেলা যৌথভাবে আয়োজন করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।