কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫২
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা স্থান না পেলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এমন লোককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটি নিয়ে দলের সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মেলন শেষে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সভাপতি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। ওই সময় হলে উপস্থিত কাউন্সিলর ও ডেলিগেটগণ করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান। তখন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন ১৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন। তাছাড়া তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনেরও দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ৩ জানুয়ারি ঘোষিত কমিটিতে বিগত কমিটির ১নং যুগ্মসম্পাদক এবং মীরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিনকে সদস্য পদে রাখা হয়। কমিটিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে। তাছাড়া ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম রফিকুল আনোয়ারের ভাই ও মেয়েকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবিএম পেয়ারুল ইসলামকে কমিটিতে রাখা হয়নি। কিন্তু একই এলাকার বহু সন্ত্রাসী মামলার আসামিকে সদস্য করা হয়েছে। বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আজমকেও সরিয়ে সদস্য করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল কবিরকে বাদ দেয়া হয়েছে। কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন সীতাকুন্ড এলাকার সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম। বাদ পড়েছেন সীতাকুন্ড উপজেলা চেয়ারম্যান বাকের ভূঁইয়া, সন্দ্বীপ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ, হাটহাজারী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে স্থান পেয়েছেন তৌহিদুল আলম বাবু। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বিগত কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি মনজুর আলম মনজুকে সদস্য পদে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সরওয়ার্দী চৌধুরী, আবদুল হাকিমসহ অনেকে। সীতাকুন্ড সংসদীয় আসনের এমপি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম বলেছেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি’র ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি’র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত মীরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মাঠে ময়দানে আছি। তাই পদ-পদবী না থাকলেও কখনো রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আদর্শের রাজনীতির জন্য অনেক ত্যাগস্বীকার করতে হলেও এবারের কমিটি গঠনকে নিয়ে যা করা হয়েছে তাতে আমার মতো অনেকেই আক্রোশের শিকার হয়েছেন। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, কমিটিতে স্থান না পেলে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সম্মেলনের প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মী এবং কাউন্সিলর ডেলিগেট কমিটি গঠনের জন্য তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল। প্রথমে ১৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণার পরও কেউ প্রতিবাদ করেনি। গণতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে।