কৌশল ঠিক করতে ম্যান ইউ’র খেলা দেখবেন মরিনহো

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৩
রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হওয়ার আগে সরাসরি তাদের খেলা দেখে তবেই রণকৌশল ঠিক করতে চান। সেজন্য ১৩ জানুয়ারি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিভারপুলের মুখোমুখি হতে যাওয়া ম্যানইউ’র খেলা দেখতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে যাচ্ছেন তিনি। মরিনহো জানিয়েছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি রিয়ালের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দলকে আতিথ্য দেয়ার আগে তিনি কয়েকবার ঘুরে আসতে চান ইংল্যান্ড থেকে। সেক্ষেত্রে ওল্ড ট্রাফোর্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচটি দিয়েই শুরু হবে যাত্রা। ব্রিটিশ দৈনিক দি সানকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ পর্তুগিজ কোচ বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে বলেছি যে আমি আসছি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম লিভারপুল, নিঃসন্দেহে এটি হবে দারুণ একটা ম্যাচ।’ চেলসিতে থাকাকালীন সময়ে স্যার অ্যালেক্সের সাথে মরিনহোর তর্কযুদ্ধ ছিল প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ইংল্যান্ড ছেড়ে গেলেও প্রিমিয়ার লিগের খোঁজখবর যে ভালই রাখেন তার প্রমাণ মাঝে মাঝেই দেন তিনি। গত কয়েকদিন আগেও আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারকে বলেছেন, দল নির্বাচনে তিনি সবসময়ই চান ওয়েঙ্গারের মত স্বাধীনতা উপভোগ করতে। প্রিমিয়ার লিগে তার এবারের সফর সম্পর্কে পর্তুগিজ কোচ বলেন, ‘আমি সবসময়ই আমার প্রতিপক্ষের খেলা সরাসরি উপভোগ করতে পছন্দ করি। আমি সেখানে যেতে চাই এবং নিজের চোখেই সবকিছু দেখে আসতে চাই। আশা করি (ম্যানচেস্টার) ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আমি তিন-চার বার সেখানে যাওয়ার মত সময় পাব। আমি নিশ্চিত স্যার অ্যালেক্সও একই কাজ করবেন। তিনিও আমাদের এখানে আসবেন আমাদের খেলা দেখতে।’ এদিকে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটির আগে অলরেডসদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলের তারকা মিডফিল্ডার এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলের অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড। লিভারপুলের হয়ে এ মৌসুমে লিগের সবগুলো ম্যাচে প্রতিটি মিনিট মাঠে থাকা জেরার্ডকে দেখা যাচ্ছে না আগের নৈপুণ্যে। বিশেষ করে গোল করার ক্ষেত্রে তার সেই সহজাত দক্ষতা যেন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। স্বয়ং জেরার্ডও নিজের সেরা ফর্মে আছেন এমনটা দাবি করতে পারছেন না। এই অভিযোগ অনেকটা মাথা পেতেই নিচ্ছেন তিনি। তবে এ কথাও বলেছেন যে শীঘ্রই ফিরছেন নিজের সেরা ফর্মে। অল রেডদের প্রিয় স্টিভি জি বলেন, ‘এ মৌসুমে আমার অভিজ্ঞতা কিছুটা মিশ্রই বলতে হবে। ক্লাব এবং দেশের হয়ে আমি দারুণ কিছু মাইলফলক অতিক্রম করেছি। ক্লাবের হয়ে ৬০০ ম্যাচ খেলা এবং জাতীয় দলের হয়ে ১০০তম ম্যাচে মাঠে নামা এর মধ্যে অন্যতম। তবে মৌসুমের শুরুতে আমাদের সূচনাটা কিছুটা ধীরভাবেই হয়েছে এবং লিগে আমাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ।’ নিজের পারফরম্যান্সের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকেও আমার নজর আছে । কিছু ম্যাচে আমি ভাল খেলেছি এবং বাকি ম্যাচগুলোতে আমার খেলায় আমি হতাশ এবং অবশ্যই আমার গোলসংখ্যা নিয়ে আমি মোটেই খুশি নই। মানুষের মতামত, অনুধাবন এবং রায় সবকিছুই পাল্টে যাবে যখন আপনি মাঠে গোল পাবেন। আমার মনে হয় আমার পারফরম্যান্স ক্রমশই মাঠে আমি সর্বোচ্চ যা দিতে পারি তার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে এবং এর সাথে আমি যদি আমার নামের পাশে কিছু গোল যোগ করতে পারি তাহলেই মানুষ আবার বলতে শুরু করবে পুরনো জেরার্ড আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছে।’ রেডস কোচ ব্রেন্ডন রজার্সও নিশ্চয়ই মনেপ্রাণে তাই চাচ্ছেন । কারণ, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানইউ’র বিরুদ্ধে সেরা ফর্মের জেরার্ডকে যে এ মুহূর্তে বড্ড দরকার তার।