আওয়ামী লীগের অন্যতম ঘাঁটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়নি ১৭ বছর। কমিটি নেই সাড়ে ৪ বছর। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের অন্ত নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহিম গোলন্দাজ বাবেল, পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট কায়সার আহম্মেদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলাল আহম্মেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং গ্রুপিং আছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, এর ফলে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ৪ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই বিভক্তি উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি স্বঘোষিত একাধিক কমিটি এবং একাধিক দলীয় কার্যালয় রয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে নিজ দলের প্রতিপক্ষের হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।
উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার জন্য গত সাড়ে ৬ বছর পূর্বে উপজেলা কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ৫৫ মাস পূর্বে কেন্দ থেকে এই আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করায় গত ৫৪ মাস যাবত্ উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটি বিহীন।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্যাপ্টেন (অব.) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনপ্রিয় এমপি মরহুম আলতাফ হোসেন গোলন্দাজের ছেলে ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা নির্বাচনে এ্যাডভোকেট কায়সার আহম্মেদ মেয়র পদে প্রথম নির্বাচিত হন। কিন্তু কমিটি না থাকায় আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা, ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনকে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে।
দলের একাধিক নেতা-কর্মী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, এই তিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াও বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. এস এ সামাদ, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাল আহম্মেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া), সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল হক শাকিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল, কেন্দ ীয় যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন শাহীনসহ কমপক্ষে ১২ জন আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি।
অপরদিকে এ বিরোধ নিরসনকল্পে গত ৩১ মার্চ গণভবনে এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহমি গোলন্দাজ বাবেলকে ডেকে পাঠানো হয়। গণভবন থেকে এই দুই নেতা বের হওয়ার পরপরই উপজেলা সদরে এমপি গ্রুপ ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল উদ্দিন আকন্দ বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্যে ফিরে না এলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে বিপর্যয়ে পড়তে হবে।
আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও দলের কার্যক্রম দিন দিন ঝিমিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ায় দলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না ফলে তরুণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
টাংগাব ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, ছাত্র রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছি। গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করি, কিন্তু দলে আমাদের কোন জায়গা নেই। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলাল আহম্মেদ বলেন, বিভাজন দলকে দুর্বল করে দেয়। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট কায়সার আহমেদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যই উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়া উচিত। উপজেলা চেয়ারম্যান ফাহিম গোলন্দাজ বাবেল বলেন, কমিটি না থাকলে নেতৃত্বের বিকাশ হয় না। আশা করি শীঘ্রই কেন্দ থেকে এ ব্যাপারে সিন্ধান্ত নেয়া হবে।
এমপি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার পক্ষ থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে। কেন্দে তা অবহিত করা হবে এবং শীঘ্রই কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি করা হবে।
