মিল-মালিকদের বিরুদ্ধে ধান মজুদের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৯
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম পাবনার ঈশ্বরদীতে চালের দাম বেড়েই চলেছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মিনিকেট চালের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৮৪ কেজির বস্তায় ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে চাল ব্যবসায়ীরা অটো রাইস মিল মালিকদের বিপুল পরিমাণে ধান মজুতকে দায়ী করেছেন। আর এরই প্রভাব পড়েছে স্থানীয় পাইকারী ও খুচরা বাজারে। সরেজমিন ঈশ্বরদীর প্রধান চালের মোকাম জয়নগরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ দিনে ঈশ্বরদীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকামে চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে,দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু অটো রাইস মিলের মালিকদের ধান মজুদের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জের কিছু জোতদার ও মহাজনেরা নতুন ধান ওঠার সাথে সাথে বিপুল ধান গুদামজাত করেছেন বলে তারা জানান। এসব জোতদার ও মহাজনেরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় অল্প অল্প করে চাল বাজারে ছাড়ছেন। আর একারণেই বাজারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে মজুদ অব্যাহত থাকলে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা আশংকা করছেন । ঈশ্বরদী উপজেলা ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস জানান, গ্রামপর্যায়ে ব্যাপকহারে টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের কার্যক্রম বিদ্যমান রয়েছে। ফলে বাজারে চালের কোন ঘাটতি নেই। সরকারি খাদ্য গুদামে মজুদের পরিমাণও প্রচুর। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কথা নয়। ঈশ্বরদী উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদী মোকামে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, অন্যতম বৃহত্ ঈশ্বরদী মোকাম থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৮টি জেলার চাল ব্যবসায়ীরা চাল কিনে থাকে। এখানে রয়েছে ৮০০ ধানের মিল বা চাতাল।