পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএম আউয়ালের সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দাখিল করা হলফনামায় মামলা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন গতকাল বুধবার এ রিট দায়ের করেন। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন এবং বিচারপতি হাবিবুল গনির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হতে পারে।
রিটে বলা হয়েছে, ইসির হলফনামায় অনুচ্ছেদ-১-এ শিক্ষাগত যোগ্যতার স্থলে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লে¬খ না করে একেএম আউয়াল ‘সনদপত্র হাতে না থাকায় তথ্য দেওয়া হইল না’ উল্লে¬খ করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় তিনি প্রতারণা ও শঠতার আশ্রয় নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (সংশোধিত ২০০৯)-এর ধারা ১২(৩বি) (এ) ভঙ্গ করেছেন, যা ৭৩ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এছাড়া অতীতের ফৌজদারি মামলার ব্যাপারে একেএম আউয়াল তথ্য গোপন করেছেন। কারণ একেএম আউয়ালের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালে পিরোজপুর থানায় ফৌজদারি মামলা হয়। যার নম্বর-২৯। এটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারা ও দণ্ডবিধির ১৪৮/৪৪৮/৩৮০/৪২৭/১১৪ ধারায় রুজু হয়েছিল। মামলায় আউয়ালসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির ব্যাপারে হলফনামায় ৩গ-তে তথ্য দেয়ার কথা উল্লে¬খ থাকলেও আউয়াল এ ব্যাপারে তথ্য গোপন করেছেন। এসব কারণে তার সংসদ সদস্য পদ খারিজযোগ্য। প্রসঙ্গত, আউয়ালের সংসদ সদস্য পদ খারিজের জন্য এর আগে রিটকারী নির্বাচন কমিশনকে উকিল নোটিশ দিয়েছিলেন।
পরে এম সরোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একেএম আউয়াল হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। তার সদস্যপদ বাতিল হওয়া উচিত।
