চট্টগ্রাম বিএনপির পূর্ণ কমিটি নেই বলে হতাশ নেতাকর্মী

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০২
চট্টগ্রাম বিএনপির প্রভাবশালী নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও মহানগরী সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে দলীয় বিরোধ কমে আসছে বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সমপ্রতি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দুই নেতার একত্রে উপস্থিতির ফলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লসিত। তবে সম্মেলনের তিন বছর পরও মহানগরী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ। এর ফলে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে একাধিক নেতা জানান। চট্টগ্রামের রাজনীতির মাঠে প্রভাব বিস্তার নিয়ে কয়েক বছর যাবত্ আবদুল্লাহ আল নোমান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মধ্যে বিরোধ চলছে। ২০১০ সালে কাউন্সিল সম্মেলনে প্রভাবশালী দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের পর সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। পরে চট্টগ্রাম মহানগরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সভাপতির এই চারটি পদে কেন্দ্র অনুমোদন দিলেও বাকি পদগুলো ঝুলে রয়েছে। কমিটিতে দুই পক্ষের নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জটিলতায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছে না বিএনপি। যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে। বিগত হরতাল, অবরোধ কর্মসূচিতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে দলীয় নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা গেলেও চট্টগ্রামে আন্দোলনের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। নেতাকর্মীদের পিকেটিং বা সমাবেশ করতে তেমন দেখা যায়নি। শুধু মহানগর দলীয় কার্যালয়ের সামনে একটি সমাবেশ ছাড়া আন্দোলনে আর কোন তত্পরতা ছিল না। চট্টগ্রাম মহানগরী সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ‘তারা চট্টগ্রামে থাকলে আমি সমাবেশে ডেকে আনি। কেন্দ্রে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দিয়েছি। গত ডিসেম্বর কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গ্রেফতার হওয়ায় আর হয়নি। আশাকরি অচিরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদিত হবে।’ চট্টগ্রামে আবদুল্লাহ আল নোমানের বিশাল ও সুসংগঠিত কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চট্টগ্রামের বিএনপির নেতৃত্বের জন্য আবদুল্লাহ আল নোমানকে উপযুক্ত মনে করেন। আমীর খসরুর সাথে নোমানের আগে কোন বিরোধ ছিল না। আগে আবদুল্লাহ আল নোমানের সাথে অপর প্রভাবশালী নেতা মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিনের বিরোধ ছিল। আমীর খসরুকে মহানগরী আহ্বায়ক করার পর থেকে মহানগরীতে দলীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এই দুই নেতা। তবে সমপ্রতি সমাবেশগুলোতে দুই নেতার একত্রে উপস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা অনেকটা উচ্ছ্বসিত। মাঠ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে এই নেতার ওপর কেন্দ্রের চাপ রয়েছে। আন্দোলনে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় দলীয় হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ বলে অনেকেই জানান। এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল নোমানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসাবে পরিচিত এএম নাজিম উদ্দিন বলেন, দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। তবে মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনসমূহের কমিটি গঠন নিয়েও চরম বিরোধ রয়েছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড ও ১১টি সাংগঠনিক থানা এলাকায় দুই গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে দু’টি করে কমিটি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ২০০৩ সালে নগর ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালে সম্মেলন হলে কমিটির নামের তালিকা নেয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত অনুমোদন দেয়া হয়নি। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কমিটি অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।’ চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। এই দুই জেলায় ছাত্রদল, যুবদলের কমিটিও গঠিত হয়েছে। উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিরোধ দলীয় নয়, নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে।’