রাজনীতিকরা ব্যর্থ হলেও জনগণ ব্যর্থ হবে না :মওদুদ

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৫
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর যতটা প্রকাশ পাচ্ছে, বাস্তব চিত্র তার চেয়েও ভয়াবহ। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণে জনগণই একমাত্র ভরসা। আমরা রাজনীতিকরা ব্যর্থ হতে পারি; কিন্তু জনগণ ব্যর্থ হবে না। শিগগিরই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণ জেগে উঠলে আইন, সংবিধান কোনো কিছুতেই কাজ হবে না’। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সমর্থিত রাজনৈতিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গ্রুপ-২০০৯ (জি-৯) এই সেমিনারের আয়োজন করে। জি-৯ সংগঠনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান আলোচনায় অংশ নেন। মওদুদ আহমেদ বর্তমান সরকারের প্রভাবের কারণে আইনের শাসন, বিচার বিভাগ এবং গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে বলেন, যেখানে মির্জা ফখরুলের মতো নেতার জামিন হয় না। সেখানে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন কোথায় থাকে। এই অবস্থা চলতে থাকলে স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব থাকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। এ সরকারের আমলে সংগঠিত অধিকাংশ হত্যা, সংঘাত-সংঘর্ষ এবং ধর্ষণের সঙ্গে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। সেমিনারের শুরুতে ২০১২ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরে একটি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। প্রামাণ্য চিত্রে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের গুম, কারাগারে আটক ও নির্যাতন, শিক্ষাঙ্গন ও গার্মেন্টস সেক্টরে প্রাণহানি এবং অস্থিরতা, সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশিদের নির্যাতন, সাংবাদিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও এসিড নিক্ষেপের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো স্থান পায়। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার আতঙ্কে থাকায় বিশেষ অতিথি হিসাবে সেমিনারে যোগ দিতে পারেননি। তবে তাদের ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়।