শিক্ষক সংকটে পিরোজপুরের ছয়টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আবার এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভান্ডারিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ১৩টি পদের মধ্যে সাতটি, কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১৬টির মধ্যে পাঁচ, কাউখালী এসবি সরকারি ১৭টির মধ্যে নয়, নাজিরপুর সিরাজুল হক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নয়টির মধ্যে দুই, পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪৯টির মধ্যে ১১, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ৫৩টি পদের মধ্যে ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
কাউখালী কেজি ইউনিয়ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার জানান, এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪৭৫ জন। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের পদ ১৬টি। এখানে গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, ইংরেজি, বাংলাসহ চারু ও কারুকলায় কোনো শিক্ষক নেই।
কাউখালী এসবি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৫০৪ জন। শিক্ষকের ১৭টি পদের মধ্যে নয়টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
ভান্ডারিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৩৫০ জন। এখানে প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকের পদ ১৩টি। এর মধ্যে সাতটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রায় জানান, হিসাব বিজ্ঞান, ইংরেজি, পদার্থ, ভূগোল, রসায়ন ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নেই। অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে।
নাজিরপুর সিরাজুল হক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ চন্দ্র হালদার জানান, বিদ্যালয়ে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী আছে। শিক্ষকের নয়টি পদের বিপরীতে সাতজন কর্মরত আছেন। গণিত ও ইসলাম ধর্মের শিক্ষক নেই। এসব বিষয়ের জন্য অতিথি শিক্ষক এনে পাঠদান করানো হচ্ছে। পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমা আরা খানম জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এক হাজার ৪৬০ জন। ৪৯ জনের মধ্যে শিক্ষক আছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে ১৫ বছর ধরে ভূগোলের শিক্ষক নেই ।
পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা মঞ্জু জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
উপ-পরিচালক মাধ্যমিক শিক্ষা (বরিশাল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
