হায়, প্রমত্ত ব্রহ্মপুত্র! বান ডাকে না তোমার বুকে

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
বিশাল ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মরা গাঙ্গে পরিণত হয়েছে। পানি অকল্পনীয় ও অস্বাভাবিক মাত্রায় কমে যাওয়ার কারণে নদের নাব্যতা সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদের বুক চিরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর ও ডুবোচর। পানির তেমন কোনো প্রবাহ না থাকায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা চলছে ঠেকে ঠেকে। বেশি ওজনের পণ্যবাহী নৌকা নদের মাঝ পথে আটকে যাচ্ছে। ফলে রৌমারী ও রাজীবপুর থেকে চিলমারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা নৌ-রুট হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নৌকা ব্যবসায়ী জানান, পানির প্রবাহ সচল রাখতে বহু স্থানে ড্রেজিং প্রয়োজন। রৌমারী ও রাজীবপুর থেকে চিলমারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হলে এই অঞ্চলে জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের বুক জুড়ে বিশাল বালুচর। যে দিকে চোখ যায় খালি বালি আর বালি, অসংখ্য চর। নদ হারিয়ে ফেলেছে স্রোতধারা। চর ও ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে নৌকা। নৌকার মাঝি-মাল্লারা নদীতে নেমে ঠেলে পার করছেন নৌকা। মানুষ নদী পার হচ্ছে পায়ে হেঁটে। করুণ এ দৃশ্য নদের প্রায় সর্বত্র। বিশ্বাস হবে না যে, এটাই প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র। রাজীবপুর নৌকা ঘাট থেকে চিলমারী ও গাইবান্ধা রুটে যাত্রীবাহী নৌকা চালান সাইরুদ্দিন (৩০)। বল্লেন, রাজীবপুর ঘাট থেকে চিলমারী যাইতে ২০ জায়গায় নৌকা ঠেইকা ধরে। তহন ঠেলা দিয়া নৌকা পার করা নাগে। একই অবস্থা গাইবান্ধা যাইতেও। রৌমারী ঘাট থেকে কুড়িগ্রাম নৌকা পর্যন্ত যাত্রীবাহী নৌকা চালান আব্দুস সালাম। বল্লেন, এবা কইরা নৌকা চালান যাবো না। মেলা জায়গায় নৌকা ঠেইকা ধরে। মনে হয় দুই-একদিন গেলে যাওয়াই যাবো না। নৌকা ব্যবসায়ী তৈয়ব আলী জানান, এখন নির্দিষ্ট কোনো নৌকা ঘাট নেই। নদীতে পানি না থাকায় চর পড়েছে। বালুচর পায়ে হেঁটে নৌকায় উঠতে হয়। নদে পানি না থাকায় অনেক কৃষক সেচ দিতে পারছে না। চিলমারী ভাসমান তেল ডিপোর ওপর নির্ভরশীল রৌমারী রাজীবপুরে জ্বালানি সংকট দেখা দিবে। কারণ নদীপথেই জ্বালানি তেল আনা হয়। রাজীবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বল্লেন, নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে জেলার সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এই অঞ্চল। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দ্রব্যমূল্য বাড়বে। তিনি ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং করার দাবি জানান।