ফসলি জমিতে কলকারখানা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৩
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সংযোগ সড়কের ৫০ কিলোমিটার এলাকার দুপাশের তিন ফসলী জমির উপর গড়ে উঠেছে অবৈধ শিল্প কারখানা ও ইটভাটা। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা থেকে মির্জাপুর ও টাঙ্গাইল পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশের জমি কলকারখানার মালিকরা গিলে খাচ্ছে। কল কারখানার বর্জ্যে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৬০ এর দশকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াইতে সরকারি মালিকানাধীন টাঙ্গাইল কটন মিলস নামে একটি সুতার মিল গড়ে ওঠে। উপজেলা কৃষি অফিস ও ভূমি অফিস জানায়, ৭০ এর দশকের পর মির্জাপুরে অতিমাত্রায় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠতে থাকে। বর্তমানে মির্জাপুর উপজেলার রাজাবাড়ী, গোড়াই, মমিনগর, হাটুভাঙ্গা, সোহাগপাড়া, ধেরুয়া ও দেওহাটা এলাকায় ছোট বড় মিলে দেড় শতাধিক কলকারখানা গড়ে ওঠেছে। এসব মিল কারখানা গড়ে ওঠেছে মূলত ফসলি জমির উপর। এ ছাড়া ভূমি দস্যুদের আগ্রাসনে ভরাট হয়ে যাচ্ছে খাল বিল ও ডোবা-নালা। ফসলি জমি নষ্ট করে অবাধে গড়ে ওঠেছে ইট ভাটা। মির্জাপুর উপজেলায় তিন ফসলি জমির উপর ৫০/৬০টি ইটভাটা গড়ে ওঠেছে বলে ভূমি অফিস সূত্র জানিয়েছে। এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন এক সময় এসব জমিতে ধান, পাট, সরিষা, গম, আলু, ভুট্টা, আখ ও বিভিন্ন সবজিসহ নানা ফসল ফলত। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি অফিস জানায়, অপরিকল্পিতভাবে আবাদি জমির উপর কলকারখানা এবং ইটভাটা গড়ে ওঠায় দিন দিন মির্জাপুরে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে খাদ্য ঘাটতিসহ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের কোন অনুমোদন ছাড়াই আবাদি জমির উপর কলকারখানা গড়ে ওঠেছে।