নাগেশ্বরী সীমান্ত দিয়ে অভিনব কৌশলে আসছে অবৈধ পণ্য

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৪
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্ত চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। ভারত থেকে প্রতিদিন আসছে মাদক, মসলা, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কীটনাশক, নিম্নমানের ধানবীজসহ বিভিন্ন সামগ্রী। বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি ‘সুখী’। ভারতের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকায় চোরকারবারিরা অভিনব কৌশলে উপজেলার রামখানা, নারায়ণপুর, নুনখাওয়া ও কচাকাটা সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী এদেশে নিয়ে আসে। নারায়ণপুর ও নুনখাওয়া সীমান্তে ব্রহ্মপুত্র নদের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেনি। এ সুযোগে স্রোতের উজানে ভারতীয় চোরাকারবারিরা চোরাই মালামাল কলাগাছে বেঁধে ভাসিয়ে দেয়। ভাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা এদেশীয় চোরাকারবারিরা তা খুলে নিয়ে আসে। এখান দিয়ে আসে হেরোইন, ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, চন্দনকাঠ, গবাদিপশুর চামড়া, লবণ ও কীটনাশক। গরু আসে ভিন্ন উপায়ে। সুযোগ বুঝে গরুর দলকে পানিতে নামিয়ে দিলে সেগুলো সাঁতরে ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে এপাশে আসলে সেখান থেকে এদেশের চোরাকারবারিরা সেগুলো নিয়ে আসে। একপক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তোলে। কাঁটাতার থাকায় রামখানাসহ অন্যান্য সীমান্ত দিয়ে ভিন্ন উপায়ে মালামাল আনা-নেয়া করে তারা। ভারতীয় চোরাকারবারিরা সুবিধামত সময় লম্বা বাঁশের মাথায় মালামাল বেঁধে কাঁটাতারের ওপর দিয়ে ফেলে দেয় এপাশে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে। সেখান থেকে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা এগুলো নিয়ে আসে। এখান দিয়ে আসে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, জিরা, টর্চলাইট, কীটনাশক, নাইলনের ব্যাগ ও নিম্নমানের ধানবীজ। সেগুলো নাগেশ্বরী হয়ে চলে যায় বগুড়া, পাবনা, কুমিল্লা, খুলনা ঈশ্বরদী ও রাজধানীতে। শ্রমজীবীর একটা বিরাট অংশ সামান্য মুনাফার আশায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে পাচারকারী চক্রের সঙ্গে। পশ্চিম রামখানা বাশিরভিটা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে জিরার প্যাকেট বোঝাই বস্তা মাথায় নিয়ে শ্রমিকরা ভারতীয় অংশ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ অংশে রাস্তায় স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে ঘোড়ারগাড়ি বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধান চোরাকারবারির বাড়িতে। আন্তর্জাতিক পিলার ৯৪৮ ও ৯৪৯-এর মাঝামাঝি অংশ নাখরাজ দিয়ে পার হচ্ছে মাদক। পুরো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সবাই ওপারের ঈশারার অপেক্ষায়। তারা এতটাই বেপরোয়া আগুন্তুক দেখলেও ভ্রূক্ষেপ করে না। বাগভাণ্ডার বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইমরান নিজামী বলেন, অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় আমাদের আওতাধীন সীমান্তে মাদকের বিস্তার অনেক কম। মাদকমুক্ত এলাকা গড়তে আমরা সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের নিয়ে মাদক বিরোধী সেমিনার করেছি। চোরাকারবারি ঠেকাতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে রামখানা সীমান্ত থেকে ৪৫০ গ্রাম গাঁজা আটক করা হয়েছে।