সর্বস্তরের জনগণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বাম রাজনীতিক নির্মল সেনের মরদেহ তুলে দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে। মরদেহ তুলে দেন তার ভাতিজা কংকন সেন। মারা যাওয়ার আগে নির্মল সেন তার দেহ চিকিত্সকদের গবেষণার জন্য দান করে যান।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘর থেকে নির্মল সেনের মরদেহ প্রথমে ২৩/২, তোপখানা রোডের গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির অফিসে এনে রাখা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে জাতীয় প্রেসক্লাব, কেন্দ্রী শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়। সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়।
সাংবাদিক ও সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্মল সেনের মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে ১০টা ৫০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়। মরদেহটি লাল পতাকা দিয়ে ঢাকা ছিল। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
প্রেসক্লাবে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাব-এডিটরস কাউন্সিল, প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়ন, কোটালীপাড়া প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ কৃষক লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষে শ্রদ্ধাপত্র পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। এর আগে নির্মল সেনের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তার সহকর্মী সাংবাদিকরা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, নিজের নামের মতোই তিনিও নির্মল ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নির্লোভ ছিলেন। রাজনীতি করলেও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি লেখক ও সাংবাদিক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা একটি অধ্যায় হারালাম।
এ সময় অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, সাবেক মহাসচিব আলতাফ মাহমুদ, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনক হোসেন প্রমুখ।
গতকাল দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের পক্ষে নির্মল সেনের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা। গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নির্মল সেনেরমৃত্যু হয়।
