২০ কিমি দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয় খাবার পানি

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১১
বৃষ্টির সময় ধরে রাখা পানি দিয়ে কিছুদিন চলে। এরপর শুকনো মৌসুমে কাজ ফেলে যেতে হয় খাবার পানি সংগ্রহ করতে। কখনও নদী পার হয়ে, আবার কখনও ১৫/২০ কিলোমিটার দূর থেকে সংগ্রহ করতে হয় খাবার পানি। অনেক সময় পানি আনতে গিয়ে অনেকের দৈনন্দিন আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে এক টব (২৫ লিটার) পানির মূল্য পড়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। তারপরেও জীবন বাঁচাতে দূর-দূরান্ত থেকে পানি এনে চলতে হয় মানুষকে। খাবার পানির এহেন দুরবস্থার পাশাপাশি বৃষ্টির মৌসুমে ঝড়-বন্যার সঙ্গে অনেকটা যুদ্ধ করেই চলতে হয় মংলার পশুর নদী তীরবর্তী এলাকাবাসীকে। মংলা পৌর এলাকা থেকে একটু দক্ষিণে চিলা ব্রিজ পার হয়েই চিলা ইউনিয়ন শুরু। পশ্চিমে পশুর নদী ও তার ওপারে সুন্দরবন। পশুর তীরবর্তী এ এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি লবণ পানির ঘের করায় ফসল ফলছে না বেশ কয়েক বছর ধরে। আইলা পরবর্তীতে ওই এলাকা খাঁ খাঁ করছে। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানির সময় দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় এলাকাবাসীকে। এলাকাবাসী জানান, তাদের আয়ের প্রধান উত্স হচ্ছে নদীতে মাছ ধরা। এছাড়াও সেখানকার মানুষ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করে জীবন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার প্রধানের একদিন কাজ না করলে খাবার জোটে না। চিলা ইউনিয়নের কেয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মত্স্যজীবী মধুসুদন বাইন বলেন, তাদের মূল সমস্যা হচ্ছে পানি। একদিকে যেমন খাবার পানির অভাবে তাদেরকে নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়, অপরদিকে ঝড়-বন্যার সময় বিষাক্ত পানির মধ্যেই তাদের দিন কাটাতে হয়। এ অবস্থায় এলাকাবাসীকে রক্ষায় তিনি দ্রুত ভেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য হাওয়া বেগম বলেন, লবণ পানির কারণে এলাকায় ধান হয় না। আবার খাবার পানি সংগ্রহ করতে অনেক দিনমজুরের পুরো দিনই চলে যায়। তাদের এলাকার প্রায় দেড়শ’ পরিবারের মধ্যে মাত্র ৫টি পরিবারকে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ৫টি ট্যাংকি দেয়া হয়েছে। ৩ হাজার ২শ’ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতার ওই ট্যাংকিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে মাত্র ৫টি পরিবারের চলার সুযোগ সৃষ্টি হলেও বাকি ১৪৫টি পরিবারকেই পানির সঙ্গে যুদ্ধ করেই চলতে হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হালিম হাওলাদার বলেন, পশুর নদী পার হয়ে সুন্দরবন লাগোয়া ঢাংমারী থেকে পুকুরের পানি সংগ্রহ করে নৌকাযোগে আনতে হয়। আবার চিলা থেকে প্রায় ১৫/২০ কিলোমিটার দূরের চটেরহাট-মোল্ল¬াহাট থেকেও পানি এনে পান করতে হয়। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ এনামুল কবির সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ভেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি বলে মনে করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৪টি গ্রাম নিয়ে গঠিত চিলা ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ২১ হাজার ২৬০ জন। আর পরিবারের সংখ্যা ৪ হাজার ২৫২টি।