গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৩
সরকার সিদ্ধান্ত না নিলেও পরিবহন মালিকদের সংগঠনগুলো গণপরিবহনে অস্বাভাবিক হারে ভাড়া বাড়িয়েছে। দূরপাল্লার ২০৮টি রুটে একযোগে এই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভাড়া বেড়েছে নগর পরিবহনেও। প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে এ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে ইচ্ছামতো। ফলে ইতিমধ্যে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। গতকাল এ বিষয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান। কবে এ বৈঠক হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি মন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে অবশ্য তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের আগে কেউ বেশি ভাড়া নিলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত ৩ জানুয়ারি সরকার সবধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিক সমিতি সভা করে প্রতিটি রুটে গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করা হয়। গত বছরের ১ জানুয়ারি সর্বশেষ প্রতি কিলোমিটারে গণপরিহনের ভাড়া বাড়িয়ে ১ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়েছিল। এখন এই ভাড়া ১ টাকা ৩০ পয়সায় নির্ধারণ করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাস-ট্রাক মালিক সমিতির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ভাড়া সমন্বয় করেছেন। আগেই যে ভাড়া ছিল তা আদায় করা হতো না। এখন সে টাকা আদায়ে কঠোর পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে যাত্রীদেরকেই। গতকাল গাবতলী টার্মিনালে একাধিক বাস কাউন্টারে যাত্রীদের সঙ্গে পরিবহন কর্মীদের বচসা করতে দেখা গেছে। পরিবহন কর্মীদের একটাই জবাব-‘ইচ্ছা হলে টিকেট নেন-না হলে চলে যান’। সব কাউন্টারের একই আওয়াজে অসহায় যাত্রীরা বাড়তি টাকা গুনেই টিকিট নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে রাজধানীর অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাসেও ভাড়া নেয়া হচ্ছে ইচ্ছামতো। প্রতিদিন ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছে যাত্রী আর পরিবহন কর্মীদের মধ্যে। অসহায় যাত্রীরা প্রতিকারের জন্য কারো কাছেই যেতে ভরসা পাচ্ছেন না। অতীতে যখনই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে তখনই গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। কখনো ধর্মঘটের মতো অবস্থাও তৈরি হয়েছে। পরে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।