ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও এ দেশের জনগণ দুর্যোগ মোকাবেলায় যে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তা সারা বিশ্বে প্রশংসনীয়। অবস্থানগতভাবে এ দেশের অবস্থান পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও ঝুঁকি মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য উত্পাদন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গৃহীত অনেক নীতি ও পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় বর্জ্য হুমকির কারণে। তাই শিল্প পণ্য উত্পাদনে শতভাগ পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘হ্যাজার্ড, রিস্ক এন্ড রিসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ গবেষণা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব (আইএনএসপিআইআরই) প্রকল্পের আওতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আমানত উল্লাহ্ খান এবং যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার জে. এ্যাটকিনস এ প্রকল্পের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ সেমিনারের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষ তাদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে সচেতন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলা হ্রাস কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের উদ্দীপনার ফলে শুধু ঝুঁকি মোকাবেলা নয় নতুন সাফল্যও আসবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রস্তুত রাখার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বলেন, ব্রিটিশ কাউন্সিল দুর্যোগ ঝুকি প্রশমন গবেষণায় সহায়তা করে আমাদের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করেছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও দিল্লী হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হয়েই প্রথম লন্ডন যান। এ থেকে বুঝা যায় যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি সুদীর্ঘ কালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক আগামীতে আরো মজবুত ও সুসংহত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: আবদুর রব বলেন, বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আমাদের পরিবেশকে সমৃদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। এ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বর্জ্যগত দূষণের ফলে প্রকৃতির যে অপরিমেয় ক্ষতি হচ্ছে তা রোধ করতে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
অধ্যাপক আমানত উল্লাহ্ খান বলেন, বাংলাদেশের বেশকিছু নদী বর্জ্য দূষণের কারণে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক সম্ভাবনা অংকুরে ঝরে যায়। তবে জলবায়ু বিষয়ে সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগের ক্ষেত্রে তা হয়নি। বিজ্ঞানী, সমাজ কর্মী, তরুণরা সম্মিলিতভাবে পরিবেশ ঝুকি মোকাবেলায় কাজ শুরু করেছে। এটিকে আরো বাড়াতে হবে। এজন্য সরকারের সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে দুর্যোগ গবেষণা প্রশিক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক শাহনাজ হক হুসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিলের পার্টনারশীপস এন্ড প্রোগ্রামের পরিচালক রবিন ডেভিস, যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পিটার জে. এ্যাটকিনস, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, ড. মাকসুদুর রহমান, অধ্যাপক কে এম শরিফুল হুদা, অধ্যাপক মঞ্জুরুল হাসান, সাজিদ আশরাফ করিম, ড. মাঞ্জুরুল মান্নান এবং ড. মাহবুব আলম।
