সারাদেশে চার জেলায় গত বুধবার রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় লুট হয়েছে তিনটি স্বর্ণের দোকান। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাংবাদিকের গাড়িসহ তিনটি ডাকাতির ঘটনায় তিনজন আহত হয়। এদিকে নরসিংদী সদরে ডাকাতির ঘটনায় চাপাতির আঘাতে গৃহস্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও বগুড়ার আদমদীঘিতে ডাকাতি হয়েছে দুটি বাড়িতে। ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরের ব্রিজরোডে গত বুধবার রাতে ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তিনটি স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করেছে। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে বাজারের নৈশ প্রহরীদের জিম্মি করে রাখে। তারা তিনটি স্বর্ণের দোকান থেকে লক্ষাধিক নগদ টাকাসহ প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার বণিক সমিতি এক প্রতিবাদ সভা করেছে। সভায় আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘবদ্ধ ডাকাতদের গ্রেফতারসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানায় এ ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহাসীনসহ অন্যরা জানান, সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পর্যায়ক্রমে আব্দুল হামিদের হীরা জুয়েলার্স থেকে ৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ৩ কেজি রূপা, শ্রী উপায় কুমার দাসের আপন জুয়েলার্স থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ ও ৬০ ভরি রূপা ও আশেকুদৌল¬া লিটনের লিপি জুয়েলার্স থেকে ২০ ভরি স্বর্ণ ও ৩০ ভরি রূপা লুট করে।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, দুই ঘণ্টার ব্যবধানে কালিয়াকৈরের একই স্থানে গত বুধবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকের গাড়িসহ তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট ও তিনজনকে কুপিয়ে আহত করেছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পুলিশ থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক বলে জানা যায়।
স্থানীয় সাংবাদিক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, কালিয়াকৈর-ধামরাই সড়কের সোনাখালীতে রেল ক্রসিংয়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ডাকাতরা রাস্তায় রেলের বার ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এ ঘটনার দুই ঘণ্টা পূর্বে একইস্থানে আরো দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ওই সময় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে শাহেদ আলী, বাবুল মিয়া ও অজিত পাল ওরফে টেপা নামে তিনজন আহত হয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ মামলা রেকর্ড করেনি বলে থানার ডিউটি অফিসার সফিকুল জানান।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, জেলা শহরে গত বুধবার রাতে দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। মুখোশধারী ডাকাতরা শটগান উঁচিয়ে শহরের দক্ষিণ কান্দাপাড়া মহল্লার ব্যবসায়ী প্রদীপ কুমার দে ও তার ভাড়াটিয়া স্বর্ণ ব্যবসায়ী দিপংকর সাহার বাড়ি থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, ২৫ ভরি রূপা ও নগদ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় ডাকাতদের চাপাতির আঘাতে প্রদীপ কুমার দে গুরুতর আহত হয়েছেন। একই রাতে শহরের লোকনাথ বস্ত্রালয় থেকে লুট হয়েছে ৫ লাখ টাকার কাপড়চোপড়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকেই মোবাইল ফোনগুলো কব্জা করে নেয়ায় আক্রান্তরা কেউ পুলিশকে খবর দিতে পারেনি।
গত দুইদিন পূর্বে শহরের পানপট্টিতে এক দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা আরোহীর পায়ে গুলি করে নগদ সোয়া লাখ টাকা নিয়ে যায়।
আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, নশরতপুরে গত বুধবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। দেশীয় অস্ত্রধারী ডাকাত দল মারপিট ও ঘরে জিম্মি করে নগদ ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, সাড়ে ১৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও মূল্যবান কাপড়সহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতি চলাকালে গ্রামবাসী মসজিদের মাইকে খবর প্রচার করলে ডাকাতদের সাথে গ্রামবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
