বাগেরহাটের শাখারীকাঠি বধ্যভূমিতে রাজাকারদের হাতে নিহতদের স্বজনরা আজও তাদের স্বজন হত্যাকারীদের বিচারের অপেক্ষায় আছেন। গত বুধবার পড়ন্ত বিকেলে একই দাবি নিয়ে তারা ছোট এই গ্রামীণ বাজারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সামনে হাজির হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খানের নেতৃত্বে নয় সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি গত মঙ্গলবার থেকে বাগেরহাটের বিভিন্ন বধ্যভূমি পরিদর্শন করছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর (১৮ কার্তিক) শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শাখারীকাঠি বাজারে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়। এর আগের রাতে মুক্তিযোদ্ধারা পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছিলেন। সেখানে গোলাগুলির পর রাজাকাররা আলুকদিয়া গ্রামের (এই গ্রামেই শাখারীকাঠি বাজার অবস্থিত) মহাদেব সাহা নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করেছিলো। ৪ নভেম্বর বিকেলে আটক মহাদেবকে নিয়ে দৈবজ্ঞহাটি রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার মুজিবর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র রাজাকার শাখারীকাঠি বাজারে আসে। তারা তিন দিক থেকে বাজার ঘিরে ফেলে এবং বাজারে থাকা বিভিন্ন বয়সের ৯০ জন সংখ্যালঘু পুরুষকে একত্রিত করে জোড়ায় জোড়ায় বেঁধে সারিবদ্ধ করে হুইসেল বাজিয়ে গুলি করে হতাহত করে। তাদের গুলিতে ৪২ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হন, বাকিরা আহত হন। এরপর রাজাকাররা হিন্দু অধ্যুষিত কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে সন্ধ্যায় গ্রামবাসী আহতদের সরিয়ে নিলেও নিহতদের লাশ পরদিন দুপুর পর্যন্ত সেখানেই পড়ে থাকে। পরে রাজাকাররা এসে গ্রামবাসীদের দিয়ে তিনটি নৌকায় করে লাশগুলো বিষখালি নদীর চরে নিয়ে মাটিচাপা দেয়।
