রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
হোস্টেলে থাকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে গত বুধবার রাতে ইন্টার্নি চিকিত্সকদের মারপিট ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিত্সকরা গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি শুরু করেছে। ৩৬তম ব্যাচের ইন্টার্নি চিকিত্সকদের বুধবার রাতে মারপিট ও লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। এর প্রতিবাদে গতকাল ইন্টার্নি ও ছাত্রলীগের পক্ষাবলম্বনকারী চিকিত্সকরা হাসপাতাল পরিচালকের বরাবরে পাল্টাপাল্টি স্মারকলিপি দিয়েছেন। ইন্টার্নি মহিলা চিকিত্সকদের স্মারকলিপিতে ঘটনার জন্য ছাত্রলীগ মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি রেজাওয়ানুর রহমান মিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সুমন প্রধান, ডা. মাহবুবা হোসেন, হোস্টেল ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নিতুল সাহা ও যুগ্ম আহ্বায়ক লুনা আইরিন আফরোজ বৈশাখীকে কলেজ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। নতুবা কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দেয়া হয়। স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বুধবার রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ ও সুমনসহ আরও অনেক দুষ্কৃতকারী রামদা, রড, ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হোস্টেলের মূল দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে মেয়েদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও জীবননাশের হুমকি দেয়। অপরদিকে ছাত্রলীগ মাহবুবা হোস্টেল শাখার আহ্বায়ক নিতুল সাহা ও যুগ্ম আহ্বায়ক লুনা আইরিন আফরোজ বৈশাখীসহ অন্যান্য মহিলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কলেজ কর্তৃক বরাদ্দকৃত সিটে গত কয়েকদিন যাবত্ শিক্ষার্থীরা ওঠার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তাদেরকে ইন্টার্নি চিকিত্সক ইউএ রওশন আরা, শিশির, ইমতি, সাদিয়া, রূপা নির্যাতন চালায়। তারা বৈশাখী ও নিতুন সাহাসহ অন্য ইন্টার্নি মহিলা চিকিত্সকদের চড়-থাপ্পরসহ লাঞ্ছিত করে। স্মারকলিপিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আলটিমেটাম দেয়া হয়। সহকারী হল সুপার ডা. খাইরুল ইসলাম তপন গত বুধবার রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক ড. গোলাম মোস্তফা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জরুরি সভা আহ্বান করেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইন্টার্নি চিকিত্সকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।