প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়কের নামে গণতন্ত্র নস্যাত্ করে আবারো ওয়ান ইলেভেন আনতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদেরও রক্ষা করতে চায় তারা। আর এ দুটিই তাদের সকল আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। জনগণের কল্যাণে বিরোধী দল কোনো আন্দোলন করছে না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসররা পঁচাত্তরের পর ২১ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের জন্য কিছুই করেনি, শুধু পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ব্যস্ত ছিল। এখনো তারা যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য আন্দোলনের নামে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে। সকলকে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে এসে জাতির পিতার মতো আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার অবদান তুলে ধরে বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলেন। সে সময় তিনি ৩৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছিলেন। অর্থনৈতিক মুক্তির পথে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। সার্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটা স্পষ্ট হয় যে, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়ে ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘটনা ঘটানো হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে। সঙ্গীনের খোঁচায় সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। দেশে এলিট শ্রেণী তৈরি করা হয়। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন অর্থাত্ শেষ করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। ইয়াহিয়ার এজেন্ডাই মূলত এ সময় বাস্তবায়ন করা হয়। দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই জনগণ প্রথম বুঝতে পারে সরকার মানে জনগণের সেবক। গণতন্ত্র থাকলে জনগণ কিছু পায়।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ ফেরার দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত পক্ষে জাতির বিজয় আসে এদিনই। সবাই এদিন সব হারানোর বেদনা ভুলে নেতাকে বরণ করে নেয়। বঙ্গবন্ধু সেদিন দেশে ফিরে প্রথমই এসেছিলেন জনতার সামনে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সানজিদা খানম এমপি প্রমুখ।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমাদের সামনে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ হলো- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং আগামী নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা।
