এইচএসসি পরীক্ষার জীববিজ্ঞান

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪২
জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র সুনির্মল চন্দ্র বসু প্রভাষক, মুজিব ডিগ্রী কলেজ, কাদেরনগর, সখীপুর, টাঙ্গাইল। প্রশ্ন: ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পার্থক্য লিখ। উত্তর: ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ: বৈশিষ্ট্য ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ১. প্রকৃতি ২. আকার ৩. বংশবৃদ্ধি ৪. নিউক্লিক এডিস ৫. বিপাক ক্রিয়া ১.অকোষীয়। ২.অতি আণুবীক্ষণিক অণুজীব ৩. সজীব কোষের ভেতরে বংশ বৃদ্ধি করতে পারে ৪.এদের DNA RNA যে কোন এক প্রকার নিউক্লিক এসিড থাকে। ৫.বিপাক ক্রিয়া দেখা যায় না। ১.কোষীয়। ২.আণুবীক্ষণিক অণুজীব। ৩.সজীব কোষের বাইরে বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। ৪.এদের DNA ও RNA উভয় প্রকার নিউক্লিক এডিস থাকে। ৫.বিপাক ক্রিয়া দেখা যায়। প্রশ্ন: সায়ানোব্যাকটেরিয়া কী? উত্তর: সায়ানোফাইটা বিভাগের নীলাভ-সবুজ শৈবালদের সায়ানোব্যাকটেরিয়া বলে। এদের কোষপ্রাচীরে মিউকোপেপটাইড রয়েছে। এরা ব্যাকটেরিয়া থেকে আকারে বড় এবং দেখতে নীলাভ-সবুজ বর্ণের। যেমন: Nostoc, Anabaena, Aulosira ইত্যাদি। প্রশ্ন: BGA-এর পূর্ণ নাম ইংরেজীতে লিখ। উত্তর: Blue Green Algae. প্রশ্ন: Nostoc-এর গঠন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব লিখ। উত্তর: Nostoc-এর গঠন: দৈহিক গঠন: Nostoc-এর দেহ একটি অশাখ ফিলামেন্ট এবং পিলামেন্টটি একটি মাত্র ট্রাইকোম নিয়ে গঠিত। কতগুলো ফিলামেন্ট বেশ ঘনিষ্ঠভাবে থেকে জিলাটিনের একটি পিচ্ছিল আবরণে আবদ্ধ থাকে। ফিলামেন্টের কোষগুলো নলাকার, গোলাকার, ডিম্বাকার বা পিপার ন্যায় হতে পারে। ফিলামেন্টের স্থানে স্থানে হেটারোসিস্ট রয়েছে। হেটারোসিস্ট হলো দুই প্রাচীরবিশিষ্ট, স্বচ্ছ ও দেহকোষ হতে বড় আকারের কোষ। কোষের গঠন: Nostoc-এর প্রতিটি কোষে একটি জড় কোষপ্রাচীর আছে। কোষপ্রাচীর দ্বিস্তরী। এর ভেতরের স্তরটি সেলুলোজ ও বাইরের স্তরটি জেলাটিন দিয়ে গঠিত। কোষের সাইটোপ্লাজমের কেন্দ্রে অপেক্ষাকৃত ঘন বর্ণহীন অংশকে সেন্ট্রোপ্লাজম এবং কোষের বাইরে দানাদার রঞ্জিত অংশকে ক্রোমোপ্লাজম বলে। সেন্ট্রোপ্লাজমে জালিকার ন্যায় ক্রোমাটিন বস্তু (DNA ও RNA) থাকে। রঞ্জিত পদার্থের মধ্যে রয়েছে ক্লোরোফিল-এ (সবুজ), ক্যারোটিন (কমলা-লাল), জ্যান্থোফিল (হলুদ), সি-ফাইকোসায়ানিন (নীলাভ) ও সি-ফাইকোইরিথ্রিন (লাল)। কোষের সঞ্চিত খাদ্য সায়ানোফাইসিয়ান স্টার্চ ও প্রোটিন। Nostoc-এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব উপকারিতা ১। খাদ্য হিসেবে: Nostoc প্রাথমিক খাদ্য উত্পাদক হিসেবে জলাশয়ে মাছ উত্পাদনে সহায়তা করে। ২। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: এরা বাতাসের মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাসকে শোষণ করে মাটিতে সংবন্ধন ঘটায়। ফলে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ধানক্ষেতে এর চাষ করলে পৃথকভাবে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় না। ৩। ভূমিক্ষয় রোধ: Nostoc চাষ করে ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়। অপকারিতা ১। পানি দূষণ: পুকুর, ডোবা ও অন্যান্য জলাশয়ে অনেক সময় অন্যান্য সায়ানোব্যাকটেরিয়ার সাথে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি লাভ করলে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর মৃত্যু ঘটার আশংকা থাকে। ২। অক্সিজেন ঘাটতি: পুকুরে অধিক Nostoc কলোনী থাকলে পানিতে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। ৩। রাস্তা পিচ্ছিলকরণে: কাঁচা রাস্তায় Nostoc জন্মালে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। ফলে পথচারীর চলাচলে অসুবিধা হয়।