ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মজলিশপুর ইউনিয়নে ‘সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৩
সনাক-টিআইবি ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান শীর্ষক ‘সিটিজেন রিপোর্ট কার্ড’ সম্প্রতি মজলিশপুর ইউপি কমপ্লেক্সে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সনাকের স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর মজুমদার এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সনাক সদস্য আবদুন নূর। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ এবং পলিসি) জাফর সাদেক চৌধুরী। এ জরিপের জন্য সরাসরি মাঠ পর্যায়ে ১৬ নভেম্বর ২০১১ থেকে ২২ নভেম্বর ২০১১ এ সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে মোট নমুনা বা খানার সংখ্যা ছিল ৫১২টি। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়তন প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার। ১৫,৩৮০ জন নারী এবং ১৯,৬২০ জন পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ বসবাস করছে এই ইউনিয়নে। মোট খানার সংখ্যা ৪,০৫২। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহারকারীর হার ১০০ ভাগ। শিক্ষার হার বর্তমানে ৩৫%। ইউনিয়ন পরিষদের ১৩টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। ৫-৭ জন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও কোনো মেম্বারই, কে কোন কমিটির সদস্য বা সভাপতি তা জানেন না । জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা প্রদান করতে হয়েছে ৫৬.৬% খানার সদস্যকে তন্মধ্যে ৮৩.৮৪% খানার সদস্যকে ১৮ বছর বয়সের নিচের সদস্যদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য টাকা দিতে হয়েছিল, ৪৩.৯৪% খানাকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়স্কদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য টাকা দিতে হয়েছিল। ২৭.২৮% খানার সদস্যদের উভয়ক্ষেত্রে টাকা প্রদান করতে হয়েছে। মোট জন্ম সনদপত্র নেয়া খানার মধ্যে ৩৫.৭৫% খানাকে সনদপত্রের জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নাগরিকত্ব সনদ নেয়ার জন্য ৫৮.২৭% খানাকে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। মোট খানার ৪.৩% ইউনিয়ন পরিষদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার জন্য বিচার-সালিশ প্রার্থী হয়েছিলেন। বিচার প্রার্থীদের মধ্যে মোট ১২টি খানা অনিয়ম বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। হয়রানির ধরনসমূহ ছিল শুনানির দিন বার বার পরিবর্তন করা, স্বজনপ্রীতি ও নিয়ম বহির্ভূত অর্থ প্রদান। নমুনাকৃত খানাসমূহের মধ্যে মোট ৩৩.৫৯% খানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো না কোনো খাতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেবার আওতাধীন খানাসমূহের মধ্যে ৫৬.৩% বয়স্কভাতার সেবা গ্রহণ করছেন। যারা সেবা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে ২৮.৪৯% উত্তরদাতা জবাব দিয়েছেন এসব সেবা গ্রহণের জন্য তারা অনিয়মের স্বীকার হয়েছেন। মোট ৭৮% খানা জানিয়েছেন তাদের সেবা পেতে নিয়মবহির্ভূত টাকা প্রদান করতে হয়েছে। ভিজিডি/ ভিজিএফ সেবাগ্রহীতা খানার মধ্যে ৯১.৯% বরাদ্দকৃত ত্রাণের চেয়ে কম পেয়েছে। ৯১.৪% খানা ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স প্রদান করেছে। যেসব খানা ট্যাক্স প্রদান করেছে সেসব খানার মধ্যে ৯১.৭% সমপরিমাণ অর্থের রশিদ বুঝে পেয়েছে, ৩.৬% খানা কোনো রশিদ বুঝে পায়নি। নাগরিকগণ এলাকার রাস্তাঘাট নিয়ে সবচেয়ে বেশি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, ত্রাণ-ভাতা বিতরণ, এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্যানিটেশন কার্যক্রম, বিচার-সালিশ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিষদের চেয়ারম্যান, নারী সদস্য এবং সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে মতামত দিয়েছেন। জরিপের মাধ্যমে মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদকে অধিক দক্ষ, কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনপ্রিয় করার জন্য টিআইবি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কিছু সুপারিশ প্রদান করেছে।