ট্রেনভাড়ার লাগামহীন বৃদ্ধি, ভিড়ভাট্টা, বাজে খাবার আর অনাকাঙ্ক্ষিত দেরির মতো নানা কারণে বেশ কিছুদিন থেকেই বিরক্তি বাড়ছিল ব্রিটেনের রেল পরিবহন ব্যবস্থার প্রাণ বলে পরিচিত ওয়েস্টকোস্ট মেইন লাইনের ট্রেন যাত্রীদের। এ কারণে পরিবহন খাতের এই অংশটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠান খুঁজছিলেন রেলের কর্তাব্যক্তিরা। এজন্য নিয়ম মেনে দরপত্রও আহ্বান করেন তারা। তবে বিপত্তি বাধে তখনই যখন এই দরপত্র পর্যালোচনা করতে যেয়ে নিলামে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উঠে আসে বিগজিগস টয়স লিমিটেড এর নাম। এমনিতে খ্যাতির দিক দিয়ে বিগজিগস এর ধারে কাছেও নেই অন্য কোনো কোম্পানি। কিন্তু বিগজিগস এর এই খ্যাতি যতোটা না তাদের সত্যিকারের রেল ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার কারণে তার চাইতে অনেক বেশি খেলনা ট্রেন ও কাঠের রেললাইন বানানোর জন্য। আর এ কারণেই নিলাম প্রক্রিয়ায় বিগজিগস এর আবেদন দেখে কিছুটা হলেও বিব্রত বোধ করেন রেল কর্তৃপক্ষ। অবশ্য বিগজিগস এর এই দরপত্রের সাথে তাদের দাবিগুলোও কম বিপাকে ফেলেনি নীতি-নির্ধারকদের। বিগজিগস নিজেদের সক্ষমতা জাহির করতে যেয়ে আবেদনে উল্লে¬খ করে যে, ২০০৫ থেকে শুরু করে গেল সাত বছরে কয়েক লাখ গ্রাহকের কাছে (পড়ুন শিশুদের কাছে) রেল ব্যবস্থা পৌঁছে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের এই রেল কখনও কোনো দূর্ঘটনায় পড়েনি কিংবা দেরিও করেনি। বরং সব আবহাওয়াতেই সমানভাবে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে আসছে এই ট্রেনগুলো। একই সাথে বিগজিগস যে রেলের প্রতি হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে এনে এখানে মানুষের জন্য আনন্দদায়ক নানা অভিজ্ঞতা যোগ করতে সক্ষম হবে সে আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু বিগজিগসে্র এই দাবিগুলো সত্য হলেও সেগুলো যে শুধুমাত্র খেলনা রেলের জন্যই প্রযোজ্য! এ কারণে কৌশলী পথ বেছে নেন রেল কর্মকর্তারাও। চমত্কার এক চিঠির মাধ্যমে তারা জানান, ঘরোয়া সার্ভিসের জন্য বিগজিগসের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও বাইরের পরিবেশের জন্য বিগজিগসের বানানো কাঠের রেল আর রেলপথ আধুনিক সময়ের জন্য উপযোগী নয়। এ ছাড়া বিগজিগসের ট্রেনে যেভাবে এক-তৃতীয়াংশ প্রথম শ্রেণীর কামরার পাশাপাশি গার্ডদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ রুম থাকে (আদতে খেলনা ট্রেনে) সেটিও যথার্থ নয়। এ ছাড়া কাঠের রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয় এই চিঠিতে। সেই সাথে দেওয়া হয় কিছু পরামর্শও। এদিকে নিজেদের খেলনা ট্রেন তৈরির অভিজ্ঞতা নিয়ে সত্যিকারের রেল কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহী বিগজিগস এতেই হাল ছেড়ে দিতে রাজি নয়। বরং নিজেদের খেলনা ট্রেনের সাফল্য নিয়ে আবেদন বুমেরাং হয়ে ফেরত আসার পরও নতুন করে আবারও আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
