ভাবি যারে পাই না গো তারে

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৫
যেদিকে তাকাই দেখি মানুষের প্রতি মানুষের নেই একটুকু সহানুভূতি। দেখি না কোনো মমত্ববোধ। আগের মতো নেই মানুষে মানুষে মিল-মোহাব্বত। কেউ কারো কাছে উপকার চাইলে করে দেয় ক্ষতি। সর্বত্রই যেন মানুষ মানুষের সঙ্গে করছে প্রতারণা। এই যে খাদ্য সামগ্রীতে ভেজাল দিয়ে দিয়ে মানুষই মানুষকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করাচ্ছে। যেমন ফরমালিন দেয়া মাছ, মরা প্রাণীর মাংস, কীটনাশক দেয়া শাকসবজিসহ কত না ভেজাল সামগ্রীর বিক্রি চলছেই। এসব করছে সমাজের কতিপয় অসত্ লোক। মানুষের দেয়া ভেজাল খাবার খেয়ে কত না মানুষ হচ্ছে রোগে আক্রান্ত। এ তো বললাম খাওয়া-দাওয়ার কথা। এদিকে কে কাকে ঠকিয়ে সম্পত্তি দখল করবে, একজনার জায়গা আরেকজনার নামে লিখে দিয়ে তৃতীয় পক্ষ লাগিয়ে দেয় মানুষে মানুষে গোলমাল। যার আছে ২ কাঠা জায়গা সে কীভাবে মানুষকে ঠেক দিয়ে, দুর্নীতি করে, নয়তো অন্য কোনো অসত্ কাজ করে সহায়-সম্পত্তি বাড়াবে—এই নিয়ে ভাবে আর ভাবে। ঠকানো, প্রতারণা, দুর্নীতি, লোভ-লালসা নিয়ে মগ্ন থাকে সেজদায় গিয়েও। এইসব দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোরদের ফ্ল্যাট-বাড়ি, প্লট, বিশাল অট্টালিকাও হয়ে যায় এক সময়। যা কিছু ওরা করে সবই তো অবৈধ আয়ে। দুর্নীতিবাজদের ভাবনার কি আর শেষ আছে? অঢেল সম্পত্তি বৈভব গড়ার পরেও ভাবে নেই নেই...। চাই আরো চাই...। কেউ কেউ বলেন— এই দুর্নীতিবাজ, অসত্, প্রতারকরাই বনে যান সমাজের হর্তাকর্তা বিশিষ্ট ব্যক্তি। একটু চোখ বুজে নির্যাতিতরা ক্ষণিকের জন্য হলেও দেখতে পান তাদের আসল রূপটি। শুধু তাই নয়, কত না মানুষ এখনও যেন তাদের যাঁতাকলে নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত। কোথাও গেলে মেলে না সুবিচার। মনে হয় মানুষ যেন মানুষের পাশে নেই। দেখি তো না কারো মধ্যে একটুকু সহানুভূতি। প্রসঙ্গত, ২০ বছর আগে আসামের গৌহাটি শহরে বেড়াতে গিয়ে শুনলাম, নেহেরু পার্কে সন্ধ্যায় কিংবদন্তী কণ্ঠ তারকা ভূপেন হাজারিকা গান গাইবেন। যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে গান শুনলাম। উনি যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনি নমস্কার জানিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি যে মানুষ মানুষের জন্যে গানটা গাইলেন এ যুগে এ কথা কি মিথ্যে নয়? উনি হেসে বললেন, ‘একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না ও বন্ধু’—কেন, এ কথা কি তুমি শোনোনি! অবশেষে উনি আমার গালে হাত স্পর্শ করে গানের ভাষায়— ‘দানব কখনও হয় না মানুষ, যদি দানব কখনওবা হয় মানুষ লজ্জা কি তুমি পাবে না ও বন্ধু...’ এই কথাগুলো বলে চলে গেলেন। ঢাকা